
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) আহ্বানে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বটতলায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে ”একসাথে চলে না, শিক্ষা আর বাণিজ্য”, “কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে”, “বাণিজ্য না শিক্ষা, শিক্ষা শিক্ষা”, “লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই”, “চাকরি চাই যোগ্যতায়, কমিটি বা কোটায় নয়”, “শিক্ষা নিয়ে তালবাহানা, মানি না মানবো না” এবং “শিক্ষা নিয়ে প্রহসন, মানি না মানবো না’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়। এসময় তারা শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানান।”
সমাবেশে জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, “এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আর কোনো পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন না। শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। তাই ৩ আগস্টের বৈঠকে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা যাবে না। অন্যথায় শিক্ষার্থী সমাজ তা মেনে নেবে না এবং এর দায় সরকারেরই নিতে হবে।”
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “স্কুল-কলেজের গভর্নিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ও নিয়োগ-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। আমরা চাই না কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব কিংবা চাচা-মামা-খালুর সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগ হোক। আমরা চাই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করা হোক। তাই ৩ আগস্টের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাখাত নিয়ে এমন কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে সরকারকে বিরত থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় হাত দেওয়ার মতো দুঃসাহস দেখাবেন না। শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের যে ভুল অতীতে করা হয়েছে, সেই পথ অনুসরণ করবেন না। শিক্ষার্থীরা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ চায়—কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বা কমিটির ইচ্ছার ভিত্তিতে নয়। তাই অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করুন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাখাতকেন্দ্রিক এমন ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দুঃসাহস দেখাবেন না।”
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা বহাল রাখা, শিক্ষক নিয়োগে মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
মন্তব্য করুন