
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীতে দায়িত্ব পালনকালে দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় মো. আলমগীর হোসেন (৫৫) নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) এক উপসহকারী পরিচালক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীর ফতেহপুর এলাকায় স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের পাশে বিকন মডেল কলেজ সড়কের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমগীর হোসেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মনাকিয়া গ্রামের মৃত নূর উদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিনি পাঁচ সন্তানের বাবা। সেনাবাহিনীতে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল র্যাবে যোগ দেন। চলতি বছরের ১৭ মে এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্পে উপসহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এসআরবি ফেনী ক্যাম্প সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে মহাসড়কের মহিপাল এলাকায় সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশির জন্য চেকপোস্ট বসানো হয়। দায়িত্ব পালনকারী দলের সদস্যরা সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আলমগীর হোসেনকে ধাক্কা দেয়। পরে ট্রাকটি মহাসড়কের এক পাশে গিয়ে থেমে যায়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আলমগীরকে সহকর্মীরা দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসআরবির সদস্য শরীফ জানান, চেকপোস্টে ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। আলমগীর সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইফুর রহমান জানান, রাত ১টার দিকে আলমগীরকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। দুর্ঘটনায় তার কোমরের নিচের অংশ গুরুতরভাবে থেঁতলে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান বলেন, তিনিও ঘটনাস্থলে দায়িত্বে ছিলেন। আলমগীর তার কিছুটা দূরে সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে দ্রুতগতির ট্রাকটি তাকে ধাক্কা দেয়। হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক সজীব (৩০) আহত হয়েছেন এবং এসআরবির হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, নিহত কর্মকর্তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মহাসড়কে দুর্ঘটনার বিষয়টি হওয়ায় হাইওয়ে পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
মন্তব্য করুন