
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে চলাচলের সময় বেপরোয়া গতিতে আসা একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চিকিৎসা বাবদ ক্ষতিপূরণ আদায় হলেও অভিযুক্তের অনুশোচনাহীন আচরণ এবং দুর্ব্যবহারের কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার(২১ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংলগ্ন ছবি চত্বরের পাশের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী ভোরে লাইব্রেরীতে সিট রেখে সাইকেলে করে হলে ফেরার পথে বিপরীত দিক (রং সাইড) থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আঘাত পান। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
জানা যায়, অভিযুক্ত মোটরসাইকেল চালক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৫১তম ব্যাচের নাইমুল হক নব ।
ঘটনার পর প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ভুক্তভোগীর ব্যাচমেট হওয়ায় এবং বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার সুযোগ থাকায়, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর প্রশাসনিক শাস্তির পথে যাননি ভুক্তভোগী। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজের ভুল স্বীকার করে চিকিৎসা বাবদ ক্ষতিপূরণও প্রদান করেন।
তবে ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ক্ষতিপূরণ প্রদান করলেও অভিযুক্তের কথাবার্তা ও আচরণে অনুশোচনার কোনো ছাপ ছিল না, যা তাকে মানসিকভাবে আরও পীড়া দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “স্যার বলেছিলেন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্তু সে তখন আসেনি। পরে আমাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে রাত প্রায় ১০টার দিকে এসে সে একপ্রকার আমার মুখের ওপর টাকা ছুড়ে ফেলে। যদিও প্রক্টর স্যার ৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন, সে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বলে‘আমি এটা নিয়ে আর কিছু করতে পারবো না। আমার জীবনে আর কোনো কাজ নেই নাকি? এটা নিয়ে আমি আর পড়ে থাকতে পারবো না। আমি ১০ হাজার টাকা দিয়ে দিলাম।’তখন আমি তাকে জানাই, আমাকে তো ৮ হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, এ সময় ওই ব্যক্তি উগ্র আচরণ করেন এবং তার সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগী বলেন, “প্রথমে আমি তাকে ক্ষমা করেছিলাম। কিন্তু এখন আমি চাই তার যথাযথ শাস্তি হোক, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী আমার মতো এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়।”
অভিযুক্ত নাইমুল হক নব বলেন, তারা যদি আমার কোনো অসৌজন্যতামূলক ব্যবহার পেয়ে থাকে তাহলে আমি একান্তভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে গেছে, আমি একান্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, অভিযোগ পত্র পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু ছুটি হয়ে গেছে ছুটির পর আমরা এটা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
মন্তব্য করুন