
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগে সামিয়া আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সামিয়া আক্তার রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা একই ইউনিয়নের উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে হাফিজ মোল্লা সামিয়াকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ স্বজনদের। স্থানীয়দের দাবি, হাফিজের আরও দুটি স্ত্রী রয়েছে। এছাড়া তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, গত ১৬ জুন হাফিজ মোল্লা তার বোনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে নিজেই তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাত ২টার দিকে সামিয়ার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত হাফিজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাকে জানালে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনদের দাবি, সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মারধরের পর তাকে বিষপান করানো হয়েছে।
শুক্রবার রাতে মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। এ সময় অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা।
নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল হাফিজ। এ ঘটনায় গত ২৫ জুন রামগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা থেকে একজন নারীর বিষক্রিয়াজনিত মৃত্যুর বিষয়ে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার তথ্যসংবলিত একটি চিঠি এসেছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন