
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চরম ফল বিপর্যয় ঘটেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শূন্য পাসের তালিকায় থাকা দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি দাখিল মাদরাসা এবং অপরটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বগুড়ায় এ চিত্র সামনে আসে। এমন উদ্বেগজনক ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদরাসা থেকে এবার ১৪ জন ছাত্রী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অংশ নেওয়া ১৪ জনের একজনও পাস করতে পারেনি। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের বাসিন্দারা মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে সেখানে ১৭ জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অভিভাবক মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদরাসায় ঠিকমতো পাঠদান হয় না। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে যথাযথভাবে মনোযোগী হলে এমন ফলাফল হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ রয়েছে।
অভিভাবক মজনু মিয়া বলেন, “মাদরাসাটি ঠিকমতো চলে না। শিক্ষকরা নিয়মিত ও যথাযথভাবে ক্লাস নিলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও ভালো হওয়ার সুযোগ ছিল। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি প্রয়োজনীয় নজর দেওয়া হয়নি বলেই এবার ১৪ জনের সবাই ফেল করেছে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার সুপার আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই ভালো ফলাফল হয়ে আসছে। এবারই ফল বিপর্যয় ঘটেছে। কী কারণে এমন ফল হয়েছে, তা নির্ণয় করে আগামী দিনে ভালো ফলাফল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, ধুনট উপজেলার হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম কলেজের ভোকেশনাল শাখা থেকেও এবার সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ এ প্রতিষ্ঠানেও পাসের হার শূন্য।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিতভাবে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয় না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ও পাঠদানের বিষয়েও আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১৪ সালে ভোকেশনাল শাখা চালু করা হয়। বর্তমানে কলেজে সব মিলিয়ে ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, আমাদের ভোকেশনাল শাখায় শিক্ষক সংকট রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। এ কারণে এবার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। আমরা কলেজের শিক্ষকদের দিয়েই ভোকেশনাল শাখায় পাঠদান করে থাকি। এ বিষয়টি নিয়ে সামনে থেকে আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হবে।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদরাসা ও টেকনিক্যাল কলেজের ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর তা কার্যকর করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমন ফলাফলের পেছনে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন