
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় এক অসহায় ও ভূমিহীন কবিরাজকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণে মেরে লাশ গুম করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে গত শনিবার (২০ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে গতকাল ২২ জুন (সোমবার) দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী গয়েছ মিয়া।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে গয়েছ মিয়া এলাকায় একজন কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। এলাকায় নিজস্ব কোনো জমি বা বংশীয় জোর না থাকায় জীবিকার তাগিদে তিনি গত ১৫ মাস ধরে বাজিতপুর গ্রামের উত্তর দিকে অবস্থিত একটি জঙ্গলের বটবৃক্ষের নিচে কুঁড়েঘর তৈরি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। এলাকার মানুষের সাহায্য-সহযোগিতাই তার জীবনযাত্রার একমাত্র অবলম্বন।
ভুক্তভোগী গয়েছ মিয়ার অভিযোগ, তার এই বসবাস দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর অংশ হিসেবে গত ১৯ জুন প্রতিপক্ষরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গয়েছ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে তদন্ত করে ওই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর প্রতিপক্ষরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জেরে গত ২০ জুন সকাল অনুমান ৯টার সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোঃ কামাল উদ্দিন (৫৫), রুহুল আমিন রুপাই (৫২), আব্দুর রূপ (৬০), সুনুর মিয়া (৬০), জিয়াউল হক (৪০), ‘আলামিন সিরাজী (৩০), কর্ণেল (২৫), শাহিন মিয়া (৩৮), আলা উদ্দিন (৪৮), কাদির মিয়া (২৮), আসু মিয়া (৫২), হাবিবুর রহমান (২৩), আব্দুল মালিক (৫৫), আশিক মিয়াসহ ১৪ জনের একটি দল গয়েছ মিয়ার কুঁড়েঘরে হামলা চালায়। তারা গয়েছ মিয়াকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের ভয় দেখায়। এ সময় গয়েছ মিয়ার আর্তচিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা মিনারা বেগম, নজির মিয়াসহ আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পিছু হটে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় প্রতিপক্ষরা হুমকি দিয়ে যায় যে, যেকোনো উপায়ে গয়েছ মিয়ার কুঁড়েঘর পুড়িয়ে তাকে গ্রামছাড়া করা হবে। সুযোগ বুঝে তাকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেয় তারা।
ভুক্তভোগী গয়েছ মিয়া বলেন, “প্রতিপক্ষরা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তি। তাদের হুমকির মুখে এই বর্ষার মৌসুমে আমি কুঁড়েঘরে থাকার সাহস পাচ্ছি না। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাইছি।”
এ বিষয়ে জানতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুপ রতন সিংহ বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন