
জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, সাতক্ষীরা শাখার উদ্যোগে জেলায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্যকর্ম, প্রগতিশীল চেতনা ও সমাজভাবনা নিয়ে এক ব্যতিক্রমী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সংগঠনের সাতক্ষীরা শাখার আহ্বায়ক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা ফাইজা হোসেন অন্বেষা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাংস্কৃতিক পর্বে চৈতালি মুখার্জী, নয়ন কুমার ভট্টাচার্য, প্রতাপ কুমার সরদার, প্রীতম রায়চৌধুরী ও তৌফিক আর হামের পরিবেশনায় সুকান্তের চেতনা, দ্রোহ ও মানবিক বোধ নতুনভাবে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে প্রাণ পায়। শেষপর্বে সম্মিলিত কণ্ঠে কবিতা ও গানের পরিবেশনায় পুরো আয়োজনটি একটি মানবিক সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞে রূপ নেয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা ফাইজা হোসেন অন্বেষা বলেন, মাত্র একুশ বছরের জীবনে সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যকে যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁর কবিতায় শুধু বিদ্রোহ নয়, রয়েছে মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ। আজকের সময়েও বৈষম্য, অন্যায় আর মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে তরুণদের কাছে সুকান্ত এক অনবদ্য অনুপ্রেরণার নাম। সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়েই এই কবির চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন শোষিত মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর। তাঁর কবিতায় ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ যেমন উঠে এসেছে, তেমনি জেগে ওঠার আহ্বানও উচ্চারিত হয়েছে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে তরুণদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এমন আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন প্রজন্ম বই পড়ুক, কবিতা জানুক এবং মানবিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে কবির সাহিত্যকর্ম ও সমাজভাবনা নিয়ে আরও আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, সুকান্ত কেবল একজন কবি নন, তিনি ছিলেন সময়ের বিবেক, যাঁর লেখায় সাধারণ মানুষের বেদনা ও স্বপ্নের সঠিক প্রতিফলন ঘটেছে। রেহেনা পারভিন বীথি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সুকান্তের কবিতায় দেশপ্রেম ও মানবতার এমন শক্তিশালী আবেদন রয়েছে যা পাঠককে আজও গভীরভাবে নাড়া দেয়। অন্যদিকে তরিকুল ইসলাম অন্তর বলেন, তরুণ বয়সেই তিনি সাহিত্যে যে গভীরতা সৃষ্টি করেছেন, তা বাংলা কবিতায় বিরল।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আদৃকা সাবা খান নুফ ও নওরিন উলফাত অনন্যা কবির প্রগতিশীল চেতনা নিয়ে আলোচনা করেন। কবির স্বপ্নের সাম্য ও আলোর পৃথিবী গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
মন্তব্য করুন