
এক সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে দেশটির মাশহাদ শহরে শিয়াদের অষ্টম ইমাম, ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণের ‘দার আল-জিকর’ কক্ষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের আগে আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে মরদেহবাহী কফিনটি ইমাম রেজা (আ.)-এর রওজার চারপাশে প্রদক্ষিণ করানো হয়।
পবিত্র মাজারের পায়ামবারে আজম (সা.) প্রাঙ্গণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহীদ নেতার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দাফনের পর ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা তার জন্য ‘লাইলাতুল দাফন’-এর নামাজ আদায় করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে মাশহাদে আয়োজিত শেষ শোকযাত্রায় লাখো মানুষ অংশ নেন। মরদেহবাহী গাড়িকে ঘিরে শহরের প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আয়াতুল্লাহ খামেনির জ্যেষ্ঠ পুত্র সাইয়্যেদ মোস্তফা খামেনি জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
জনসমাগম এতটাই বিশাল ছিল যে, শুধু মাজার প্রাঙ্গণেই নয়, নওয়াব সাফাভি, তাবারসি ও শিরাজি সড়কজুড়েও জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। শোকযাত্রাজুড়ে “আমেরিকার মৃত্যু”, “ইসরায়েলের মৃত্যু” এবং “বিলায়াতে ফকিহের বিরোধীদের মৃত্যু” স্লোগান ধ্বনিত হয়। একই সঙ্গে শোকাহত জনতা ‘ইয়া লাসারাতিল হুসাইন’ লেখা লাল পতাকা বহন করেন, যা শোকের পাশাপাশি ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
গত শুক্রবার শুরু হওয়া শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের ৪৫টিরও বেশি দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং ৯০টিরও বেশি দেশের ধর্মীয় আলেম অংশ নেন। পরে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। সোমবার রাজধানী তেহরানে বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং মঙ্গলবার কোম ও জামকারান মসজিদে পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইরান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের সীমান্তঘেঁষা এই ঐতিহাসিক স্থানে প্রতিবছর প্রায় তিন কোটি মানুষ জিয়ারত করতে আসেন।
বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হলো, একই মাজার প্রাঙ্গণে আব্বাসীয় খেলাফতের পঞ্চম খলিফা এবং ‘আরব্য রজনী’র অন্যতম পরিচিত চরিত্র খলিফা হারুনুর রশীদও সমাহিত রয়েছেন।
বর্তমান মাশহাদ শহরের প্রাচীন নাম ছিল ‘তুস’। এই শহর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসলামের সুন্নি ধারার অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ ও ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ খ্যাত ইমাম গাজালির কবর।
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের নানা ধারা এসে মিলিত হয়েছে খোরাসানের এই অঞ্চলে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
মন্তব্য করুন