
লালমনিরহাটের আলোচিত নন্দিনী রাণী হত্যাকান্ডে প্রধান অভিযুক্ত আসামী বিধান চন্দ্র বর্মণ নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকালে আসামী বিধান চন্দ্র বর্মণ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলাউদ্দিনের আমলী আদালত-২ (সদর) এর আদালতে তিনি জবানবন্দী দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার বিকালে লালমনিরহাটের আমলী আদালত-২ (সদর) এর বিচারক মো: আলাউদ্দিনের আদালতে সন্দেহভাজন আসামী বিধান চন্দ্র বর্মন ও তার পিতা রনজিত চন্দ্র বর্মণকে সোপর্দ করা হয়।
বিধান চন্দ্র বর্মণ হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততার জবানবন্দী দিতে রাজি হলে, বিজ্ঞ আদালত তাঁর খাসকামরায় জবানবন্দী গ্রহণ করেন। ১৬৪ ধারায় শিশু নন্দিনী রানীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন মুল অভিযুক্ত আসামী বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৩)। সমাজচ্যুত করার ক্ষোভ থেকেই বিধান চন্দ্র বর্মণ শিশুটিকে সোমবার বিকাল ৫টার দিকে ধরে এনে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহটি বস্তায় ঢুকিয়ে মাটি খুড়ে পুঁতে রাখে বলে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে।’
তবে বিধান চন্দ্র বর্মণের বাবা রনজিত চন্দ্র বর্মণ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবী করেছেন তিনি। ফলে ১৬৪ ধারায় রনজিতের জবানবন্দী নেয়নি আদালত।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, ‘নন্দিনী রাণীকে নিজের ক্ষোভ থেকে হত্যা করে লাশ মাটি খুড়ে পুতে রাখার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত আসামী বিধান চন্দ্র বর্মণ। তিনি আরও জানান, ‘আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ করছে।’
জানা গেছে, অভিযুক্ত বিধানের মা (রনজিত চন্দ্র বর্মণের প্রথম স্ত্রী) মমতা রাণী অন্য পুরুষের হাত ধরে চলে যায় ২০২৫ সালের শেষের দিকে। এর কিছুদিন পর বিধানের পিতা রনজিত পার্শ্ববর্তী তালুক দুলালী এলাকার স্বপ্না রাণী নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এর কিছুদিন পর বিধান চন্দ্র বর্মণ তার মা মমতা রাণীকে আবার ফেরত আনেন। দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্না রানীকে আর্থিক জরিমানা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এই পরস্পর ঘটনাগুলো ভালো চোখে নেয়নি স্থানীয় সনাতন সমাজ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন সমাজের মধ্যে দুইটি পক্ষ সৃষ্টি হয়। একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন ধীরেন চন্দ্র বর্মণ। এই পক্ষে ছিলেন অভিযুক্ত বিধানের পিতা রনজিত চন্দ্র বর্মণ। অপর পক্ষে নেতৃত্ব দেন লিটন চন্দ্র বর্মণ। লিটনের পক্ষে ছিলেন প্রতিবেশি নন্দিনী রাণী বর্মণের বাবা নলনী মোহন বর্মণসহ অন্যরা।
গত কয়েক মাস আগে অর্থাৎ গত রোজার ঈদের কিছুদিন আগে স্থানীয় সনাতন সমাজ এক পর্যায় রনজিত চন্দ্র বর্মণ, স্ত্রী মমতা রাণী ও তাদের একমাত্র ছেলে বিধান চন্দ্র বর্মণকে সমাজচ্যূত (এক ঘরে) করে। উল্লেখ্য অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র বর্মন স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী ছিল।
এ নিয়ে প্রতিবেশি দুই পরিবারের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সমাজচ্যুত করার ক্ষোভ থেকেই বিধান চন্দ্র বর্মণ শিশুটিকে সোমবার বিকাল ৫টার দিকে ধরে এনে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহটি বস্তায় ঢুকিয়ে মাটি খুড়ে পুতে রাখে বলে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে।’
মন্তব্য করুন