
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান, অপরাধ দমন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা জোরদার করেছে থানা পুলিশ। গত ১ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে ১৭ জন মাদক কারবারি এবং পাঁচজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরাধ দমনের পাশাপাশি মানবিক ও জননিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কথাও জানা গেছে। রেললাইনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করা এক মা ও তাঁর দুই সন্তানকে উদ্ধার, নিখোঁজ তিন শিশুকে খুঁজে বের করা এবং অপহরণের শিকার দুজনকে উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা উল্লেখযোগ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলার ১২টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে থানা পুলিশ। উৎসবকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ বলেন, “আমরা ভেড়ামারা উপজেলাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও শান্তিকামী মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত সাড়া দেওয়া, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নারী ও শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মারধর বা আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পুলিশের সহায়তা নেওয়াই সঠিক পন্থা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের নিয়মিত অভিযান, দ্রুত সাড়া প্রদান এবং জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভেড়ামারায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে।
মন্তব্য করুন