
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠন ‘স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি’র উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন বার্তাসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
প্ল্যাকার্ডে ছিল—‘আমি আছি—কষ্টের কথা বলুন, সাহায্য নিন’, ‘একটি সহানুভূতিশীল কথা কারও কঠিন দিনকে সহজ করে দিতে পারে’ এবং ‘বন্ধুর কষ্ট ছোট করে দেখবেন না’-এর মতো বিভিন্ন জীবনমুখী বার্তা।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ ছাড়া উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আত্মহত্যা একটি সামাজিক ব্যাধি। সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই মানসিক অস্থিরতার মধ্যে পড়তে পারেন, যা কখনো কখনো তাদের আত্মহত্যার চিন্তার দিকে ঠেলে দেয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিষয়টি উদ্বেগজনক হওয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুধু মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠন নয়, পরিবার ও বন্ধুদেরও আশপাশের মানুষের মানসিক অবস্থার প্রতি নজর রাখা জরুরি। কারও মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতার লক্ষণ দেখা গেলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্যাম্পাসে একজন নারী মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়েও ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি আবারও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও বিষণ্ণতার মতো সমস্যার কারণে অনেকের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা তৈরি হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবহেলা, কটূক্তি বা ‘পাগল’ বলে উপহাস করলে তার মানসিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা নিরাময়যোগ্য। যথাযথ চিকিৎসা, সহানুভূতিশীল আচরণ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে একজন মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই মানসিক সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপহাস না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা সবার দায়িত্ব।
র্যালিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা (প্রশাসনিক) ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করে নোবিপ্রবি শহীদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টার, ব্লাড ব্রিগেড ও স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’। দিবসটির সঙ্গে যুক্ত স্লোগান হলো—‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ভেঙে কথা বলা শুরু করুন’।
মন্তব্য করুন