
চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে জনজীবনে তৈরি হওয়া দুর্ভোগ নিরসনে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জনগণের ভোগান্তি ও সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে করণীয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনার কথা বলে বর্তমান দুর্ভোগ থেকে মানুষকে অপেক্ষা করানো ঠিক নয়। তার দাবি, জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত সংকট মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেটে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। প্রয়োজন হলে জরুরি খাতের অর্থ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ভুয়া বা অস্বাভাবিক বিল বন্ধ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জামায়াতের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব বন্ধ করা গেলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তার ভাষ্য, কেউ সংকট মোকাবিলায় দুই বছর, আবার কেউ দশ বছরের সময়সীমার কথা বলছেন। সরকারের সংশ্লিষ্টদের আগে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার চাইলে সেই প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারে। এতে সরকারের সক্ষমতা ও সদিচ্ছা সম্পর্কে জনগণের কাছেও ইতিবাচক বার্তা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চান না। কারণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ব্যর্থতার প্রভাব শুধু সরকারের ওপর পড়ে না; এর খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষ ও পুরো অর্থনীতিকে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জ্বালানি সংকটে একজন গৃহিণী রান্না করতে সমস্যায় পড়েন, কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং উদ্যোক্তারা সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে না পারায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন। এর সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়ে।
সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এখনই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপিসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন