
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৫৭ লাখ ৬ হাজার ৬০০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭২ হাজার ৫৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মামলাটি করা হয়। এতে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, রেজাউল হক চৌধুরী দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৫২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৮ টাকা দেখিয়েছেন। তবে যাচাইয়ে তার নামে স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৯১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮ টাকা পাওয়া যায়।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, দায়-দেনা বাদ দিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩ টাকা। এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য মোট আয় ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪৮ টাকা। ফলে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭২ হাজার ৫৩৫ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক জানায়, সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত ১ অক্টোবর প্রধান কার্যালয় থেকে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগের সময়কাল ১৯৮৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত।
মামলার বাদী দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বুলবুল আহমেদ। তদন্তে নতুন কোনো সম্পদ বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন