
দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে প্রকাশিত তালিকায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম না থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ গত ৬ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনে ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি নতুন ১৩টি উপজেলায় ১০১ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল, হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ তালিকায় স্থান পেলেও বাদ পড়ে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে শয্যা সংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ভুগছে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এলেও পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেককে মেঝে কিংবা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের ঠাকুরগাঁও, রংপুর কিংবা দিনাজপুরে পাঠানো হয়, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
ভোমরাদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “সরকার যখন আশপাশের উপজেলাগুলোর হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করছে, তখন পীরগঞ্জকে বাদ দেওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশার।”
শিশুকে চিকিৎসা করাতে আসা নাসিমা বেগম বলেন, “সামান্য চিকিৎসার জন্যও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।”
কলেজশিক্ষার্থী রাকিব হাসানের ভাষ্য, “জনসংখ্যা ও রোগীর চাপ বিবেচনায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দ্রুত সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পীরগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা এবং আশপাশের বহু মানুষ এখানকার স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল। তাই হাসপাতালটির শয্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এখন অত্যন্ত জরুরি।
তাদের দাবি, সরকারের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে বাস্তব চাহিদা, রোগীর চাপ এবং জনসংখ্যার বিষয়টি বিবেচনায় এনে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দ্রুত ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য উন্নত, সহজলভ্য ও মানসম্মত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য করুন