এলিন মাহবুব, কলামিস্ট
২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলার সুরক্ষার ঘাটতি কোথায়?

Share this news with

প্রবাসীর অপরাধের বিচার বিদেশি আদালতে হতে পারে, কিন্তু তাঁর ন্যায্য বিচার ও কনস্যুলার অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের—মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হাজির করেছে: বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হলে তাঁর পাশে রাষ্ট্র কতটা দাঁড়ায়? বাংলাদেশের দূতাবাস কি শুধু পাসপোর্ট, ভিসা ও শ্রমিকদের প্রশাসনিক সমস্যা নিয়ে কাজ করবে, নাকি নাগরিকের জীবন ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে?

২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মসজিদে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের বিচার হয়েছিল। ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চাওয়া হয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার বা দেশটিতে বাংলাদেশের মিশনকে অবহিত করা হয়নি বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। (সূত্র:  দ্য ডেইলি স্টার ১৭–১৮ অক্টোবর ২০২৬; বিডি নিউজ ২৪.কম ১৮ অক্টোবর ২০২৬।)

এখানে প্রশ্নটি শুধু মৃত্যুদণ্ডের নৈতিকতা নিয়ে নয়। প্রশ্ন হলো, বিচারপ্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরেছিল, আটক দুই নাগরিক তাঁদের কনস্যুলার অধিকার সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না, তাঁরা আইনজীবী পেয়েছিলেন কি না এবং বাংলাদেশ তাঁদের পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল কি না।

ভিয়েনা কনভেনশন: ঠিক কোথায় প্রশ্নটি উঠছে?

১৯৬৩ সালের  ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশনস আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিদেশে আটক নাগরিকদের কনস্যুলার যোগাযোগ ও সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো।কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিককে আটক করা হলে তাঁকে তাঁর কনস্যুলার অধিকার সম্পর্কে বিলম্ব না করে জানাতে হবে। আটক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ জানালে আটককারী রাষ্ট্রকে বিলম্ব না করে তা করতে হবে। একই অনুচ্ছেদ কনস্যুলার কর্মকর্তাদের তাঁদের নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ, সাক্ষাৎ এবং আইনগত প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে সহায়তার সুযোগ দেয় কনভেনশনের শর্তসাপেক্ষে।

এই বিধানগুলোর গুরুত্ব মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আরও বেশি। কারণ, একজন বিদেশি নাগরিক ভাষাগত সমস্যা, অপরিচিত বিচারব্যবস্থা, আর্থিক অসচ্ছলতা কিংবা আইনজীবী নিয়োগের অক্ষমতার কারণে নিজের পক্ষে যথাযথ প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে না-ও পারেন। কনস্যুলার সহায়তা তাঁর হয়ে আদালতের রায় নির্ধারণ করে না, কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে একটি আইনি পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ বিদেশি নাগরিকের আটক ও কনস্যুলার যোগাযোগের অধিকার নিয়ে। ৩৭(ক) অনুচ্ছেদে বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার পোস্টকে অবহিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দূতাবাসকে অবশ্যই আগাম জানাতে হবে—এমন সর্বজনীন বাধ্যবাধকতা কনভেনশনে স্পষ্টভাবে লেখা নেই।

অতএব, সৌদি আরব আগাম মৃত্যুদণ্ডের খবর দেয়নি—শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে কনভেনশন লঙ্ঘিত হয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। বরং অনুসন্ধান করতে হবে, আটক দুই নাগরিককে তাঁদের অধিকার জানানো হয়েছিল কি না, তাঁরা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, সে ক্ষেত্রে সৌদি কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না এবং বাংলাদেশের মিশন কোনো পর্যায়ে যোগাযোগ বা সহায়তার সুযোগ পেয়েছিল কি না।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার দায়িত্ব এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সৌদি সরকারের কাছ থেকে শুধু মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চাওয়া যথেষ্ট নয়; পূর্ণ বিচারিক ও কনস্যুলার ঘটনাক্রমও জানতে হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করতে পারত?

প্রথমত, বিদেশে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে দূতাবাসগুলোর জন্য একটি কার্যকর ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকা দরকার। কোনো নাগরিক গুরুতর অপরাধে আটক হলে, বিশেষত যে মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, তখন সংশ্লিষ্ট মিশনের উচিত আইনসম্মত উপায়ে মামলার অবস্থা জানার চেষ্টা করা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তার পথ তৈরি করা।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের অপরাধের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি তোলা হচ্ছে না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত। কিন্তু আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা, আটক ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত আছে কি না যাচাই করা এবং তাঁর পক্ষে আইনগত সহায়তার সুযোগ তৈরি করা—এসব কূটনৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাইতে হবে, দুই নাগরিক কখন আটক হয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাঁরা আইনজীবী পেয়েছিলেন কি না, আপিলের সুযোগ কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং বাংলাদেশের কনস্যুলেটকে কোনো পর্যায়ে অবহিত করা হয়েছিল কি না।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশের দূতাবাস ও প্রবাসীকল্যাণ-সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। বিদেশে আটক শ্রমিকের পরিবার অনেক সময় জানেই না যে তার স্বজন কোথায় আছেন, কোন মামলায় আটক হয়েছেন কিংবা কী ধরনের আইনি সহায়তা প্রয়োজন। রাষ্ট্র যদি শুধু পরিবারের আবেদনের অপেক্ষায় থাকে, তাহলে যাঁরা আবেদন করার উপায় জানেন না বা আর্থিকভাবে অক্ষম, তাঁরা কার্যকর সহায়তার বাইরে থেকে যেতে পারেন।

চতুর্থত, মৃত্যুদণ্ডের মতো অপরিবর্তনীয় শাস্তির ঝুঁকি থাকলে দূতাবাসের উচিত মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা। স্থানীয় আইন অনুযায়ী অনুমোদিত আইনি সহায়তা, উপযুক্ত আইনজীবী খুঁজে দেওয়া, অনুবাদ-সহায়তা, পরিবারকে তথ্য জানানো এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ—এসব পদক্ষেপ সময়মতো নেওয়া সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে হবে।

এখানে মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশের দূতাবাস কোনো বিদেশি আদালতের ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে পারে না। সৌদি আরবের আদালতের রায় বাতিল করার ক্ষমতাও বাংলাদেশের নেই। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং আইনসম্মত সহায়তার সুযোগ তৈরি করা আর বিদেশি আদালতের রায় নিয়ন্ত্রণ করা এক বিষয় নয়।

শ্রীলঙ্কার উদাহরণ: সক্রিয় কূটনীতির অর্থ কী?

এই ঘটনার আলোচনায় শ্রীলঙ্কার নাগরিক আনোজান শিবরাজের মামলাটি প্রাসঙ্গিক। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে তাঁর বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির সরকার ও রিয়াদে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার দূতাবাস বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

এই সরকারি বিবৃতি থেকে বলা যায়, শ্রীলঙ্কা তার নাগরিকের বিচারিক পরিস্থিতিতে সক্রিয় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিল। তবে এই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষা করা হয়েছে কিংবা তাঁর মামলার ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে এমন দাবি করা যাবে না।

তবু তুলনাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কূটনৈতিক তৎপরতা মানেই সব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া নয়। তৎপরতার অর্থ হলো, নাগরিকের মামলার খবর রাখা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, আইনি সহায়তার সুযোগ খোঁজা এবং নাগরিকের স্বার্থে রাষ্ট্র কী করছে, তা যথাযথভাবে জানানো।

বাংলাদেশও এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, যেখানে বিদেশে আটক নাগরিকের মামলা কেবল একটি প্রশাসনিক নথি হয়ে থাকবে না। বিশেষত মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা থাকলে সংশ্লিষ্ট মিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

প্রবাসী যখন রেমিট্যান্সের উৎস, তখন তিনি কি শুধু শ্রমিক?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ায়, অসংখ্য পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রবাসীকে শুধু অর্থনৈতিক অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি উপেক্ষিত হয়: তিনি একজন নাগরিক, যাঁর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।

কোনো নাগরিক বিদেশে অপরাধ করলে তাঁকে স্থানীয় আইনের মুখোমুখি হতে হবে। বাংলাদেশ তাঁকে বিদেশি আইন থেকে অব্যাহতি দিতে পারে না। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বলেই রাষ্ট্রের সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। অপরাধের বিচার এবং ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী নয়।

এই কারণেই রাষ্ট্রের বক্তব্যে শুধু বিদেশি আইন মেনে চলার আহ্বান থাকলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নাগরিককে আইন মানতে বলা যেমন জরুরি, তেমনি বিদেশে তাঁর আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করাও জরুরি।

বাংলাদেশের আইনেও এ ধরনের সহায়তার ভিত্তি রয়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ২৭ ও ২৯ ধারায় যথাক্রমে আইনি সহায়তা এবং বিদেশে আটক, বিপদগ্রস্ত বা আটকে পড়া অভিবাসীদের সহায়তার বিষয় রয়েছে। মজুরি আয় ওয়েলফেয়ার বোর্ড আইন, ২০১৮-তেও প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও সহায়তার বিধান রয়েছে। তবে এসব বিধান কীভাবে বিদেশে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, কারা সহায়তা অনুমোদন করবে এবং কোন অর্থায়নে তা দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ও সহজে অনুসরণযোগ্য প্রক্রিয়া থাকা দরকার।

কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা, নাকি নাগরিকের অধিকার?

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক অর্থনীতি, শ্রমবাজার, ধর্মীয় যোগাযোগ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক রক্ষা করা বাংলাদেশের স্বার্থেই প্রয়োজন। কিন্তু সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং নাগরিকের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা পরস্পরের বিরোধী নয়।

কূটনৈতিক ভাষা হতে পারে সংযত, আলোচনার পদ্ধতি হতে পারে বন্ধুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই কারণে নাগরিকের অধিকারসংক্রান্ত প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করা যায় না। বাংলাদেশ সৌদি সরকারের কাছে তথ্য চাইতে পারে, বিচারপ্রক্রিয়ার বিবরণ জানতে চাইতে পারে, কনস্যুলার যোগাযোগের বিষয়টি যাচাই করতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা উন্নত করার প্রস্তাব দিতে পারে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকার যে তথ্য চেয়েছে এবং সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করেছে, তা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু এই উদ্যোগের মূল্যায়ন করতে হলে দেখতে হবে, পরবর্তী সময়ে কতটা তথ্য পাওয়া যায়, কনভেনশনের বিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না তা কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুধু আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো বা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করাই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। প্রকৃত অগ্রগতি হবে তখনই, যখন বাংলাদেশ জানতে পারবে তার দুই নাগরিকের মামলায় কী ঘটেছিল, পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোথায়?

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ, বিচারপ্রক্রিয়ার নথি, আইনি প্রতিনিধিত্বের অবস্থা এবং কনস্যুলার যোগাযোগের ইতিহাস প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়। তাই আবেগ বা অনুমানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের চূড়ান্ত রায় দেওয়ার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করাই যুক্তিসংগত।

কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট: বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের সুরক্ষা কেবল তাঁদের নিজস্ব সতর্কতার ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো, আইনসম্মত সীমার মধ্যে তাঁদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।

একটি কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি শুধু রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক পরিচালনা করে না; সেই সম্পর্কের ভেতরে নিজের নাগরিকের অবস্থানও নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের সামনে এখন সেই পরীক্ষাই রয়েছে।

প্রবাসীরা যখন দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, তখন তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বও দৃশ্যমান হওয়া উচিত। বিদেশে তাঁদের অপরাধের বিচার হবে—কিন্তু তাঁদের অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যথাসময়ে কী করেছে, সেই প্রশ্নের উত্তরও রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

  • প্রধান কার্যালয়: ২৪১/১-বি (হক ট্রেডার্স), তেজকুনি পাড়া (বিজয় সরণি - তেজগাঁও লিঙ্ক রোড), তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫
    নিউজ রুম: ০১৭৪৬-৭৪৫১২৫
    প্রতিষ্ঠাকাল: ০২ এপ্রিল ২০২৪ ইংরেজি।
    ই-মেইল: pressdeskbd@gmail.com

    View all posts
Share this news with

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আদমদীঘিতে সাইবার সুরক্ষা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেফতার

১

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ

২

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলার সুরক্ষার ঘাটতি কোথায়?

৩

আতঙ্ক কাটিয়ে লালন আখড়াবাড়িতে জনস্রোত, শেষ হলো স্মরণোৎসব

৪

দুই বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবকে লাল কার্ড দেখাল ছাত্র ফেডারেশন

৫

ধুনটে স্ত্রীকে বিয়ে করায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু হাসপাতালে

৬

ষড়যন্ত্র থেমে নেই—দুর্গাপূজা নিয়ে নোয়াখালীতে বিস্ফোরক মন্তব্য ছাত্রদল নেতার

৭

নিজ অর্থায়নে জাবির মুক্তমঞ্চে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন

৮

তিন দিনের লালন উৎসবের দ্বিতীয় দিন ছেঁউড়িয়ায় উৎসবের আমেজ, রাতভর বাউলগান

৯

অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ শুরু ৭ জানুয়ারি, চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

১০

বগুড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের শাড়ি উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১১

সান্তাহার স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের উদ্যোগ, পরিদর্শনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশলী

১২

আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

১৩

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্টের মানববন্ধন

১৪

কোলাহল থেকে বিরতি, পূজার ছুটিতে নীরব কুবি

১৫

নির্মাণ শ্রমিককে হুমকি ও মারধরের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

১৬

৯১ দেশের প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়, বিজয়ী বিএমইউ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ‘গোল্ডেনরুটস’

১৭

সান্তাহারে তিন শতাধিক কারা নির্যাতিত বিএনপি নেতা-কর্মীকে গণসংবর্ধনা

১৮

সংবাদ প্রকাশের পর আদমদীঘিতে বুশরা, বৈশাখীসহ ১৩ চালকলকে শোকজ

১৯

লালন তিরোধান দিবস উপলক্ষে ঢাবির টিএসসিতে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

২০