
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭১ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপর ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ মিডিয়া সেলের এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় মোট ২৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা, কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
অভিযানে সুধারাম মডেল ও হাতিয়া থানায় ২৯ জন করে মোট ৫৮ জনকে আটক করা হয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানা থেকে ২০ জন, সেনবাগ থেকে ২১ জন, চাটখিল থেকে ৮ জন, চরজব্বর থেকে ১০ জন এবং কবিরহাট থেকে ১১ জন আটক হন।
এ ছাড়া কোম্পানীগঞ্জে ১০ জন এবং সোনাইমুড়ীতে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় ব্যবস্থা এবং একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
সোনাইমুড়ীতে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪ ধারায় এবং তিনজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। অন্যদের মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জেলা পুলিশ বলছে, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। এ কারণে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কিশোর ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
মন্তব্য করুন