
চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শুক্রবার চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ নগরীর চান্দগাঁও এলাকার বিভিন্ন জলাবদ্ধ স্থান ও পানিবন্দী মানুষের খোঁজখবর নিতে পরিদর্শনে যান। এ সময় তারা চান্দগাঁও হাজীরপোল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল, অনন্যা আবাসিক এলাকা ও শমসেরপাড়াসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
পরিদর্শনকালে মেয়র ও সংসদ সদস্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পানি নিষ্কাশনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সে বিষয়ে তাদের মতামত নেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে ইতোমধ্যে পানি নেমে গেছে। তবে কিছু নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে আছে। এসব এলাকায় কেন পানি দ্রুত নামছে না, তা স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট এলাকাগুলো থেকেও পানি সম্পূর্ণ নেমে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। পানি নিষ্কাশনের যেকোনো প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, চসিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে নিচু এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পানিবন্দী মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পানিবন্দী মানুষের পাশে বর্তমান সরকার রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে একা রাখা হবে না।”
পরিদর্শনকালে মেয়র ও সংসদ সদস্য স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
চসিক ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী ও কার্যকরভাবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন