
নওগাঁ শহরে গরু আনতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের ধারালো চাকুর আঘাতে দুই যুবক গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দুই দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত টাকা এবং অপরাধে ব্যবহৃত ধারালো এন্টিকাটার ও চাকু উদ্ধার করা হয়।
আজ শুক্রবার (২২ মে) রাত সোয়া ১টার দিকে নওগাঁ শহরের নুনিয়া পট্টি ফলপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— নওগাঁ শহরের শেখপুরা প্রেমতলী ব্রিজ ভরিয়াপাড়া এলাকার মোঃ মানিকের ছেলে মোঃ রায়হান (২১) এবং জনকল্যাণ শিশু পার্ক এলাকার মৃত মোশাররফ খলিফার ছেলে মোঃ লিটন (৩৫)। পুলিশ তাদের শহরের তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত ছিনতাইকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নওগাঁ শহরের গোস্তহাটি মোড় জনকল্যাণ স্কুল মাঠের পেছনে ধানক্ষেতের পাশে গরু আনতে যান মোহন হোসেন (২৬) নামের এক যুবক। এ সময় অজ্ঞাতনামা ৩ জন ছিনতাইকারী তাকে ধারালো চাকু দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
মোহন বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। মোহনের চিৎকার শুনে তার বন্ধু নুর ইসলাম (২৫) এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা তাকেও গুরুতর জখম করে এবং তাদের কাছে থাকা নগদ ৫,০০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনাটি জানার পরপরই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের কঠোর নির্দেশনায় মাঠে নামে পুলিশ। সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে এসআই শাহীন মিয়া ও পুলিশের একটি চৌকস দল শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিরামহীন অভিযান শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ গভীর রাতে নুনিয়া পট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান ও লিটনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত নগদ ১,৯০০ টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু ও একটি এন্টিকাটার জব্দ করা হয়। এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁর পুলিশ সুপার বলেন, “শহরে ছিনতাই ও অপরাধ দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ দিনরাত বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
একই সাথে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যারা সামান্য কিছু টাকার জন্য মানুষকে এভাবে নির্মমভাবে আঘাত করতে পারে, তারা একেকটা জা*নোয়ার। এই সব অপরাধী ও জা*নোয়ারদের শুধু আইনি প্রক্রিয়াই নয়, সমাজ থেকেও সম্পূর্ণ বয়কট করতে হবে। এদের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”
মন্তব্য করুন