
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘স্বর্ণের ডিম পাড়া হাঁস’। অতিরিক্ত লোভ ও ভূল সিদ্ধান্তের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক মুহাম্মদ জিয়াউল হক।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১২টা ২৫ মিনিটের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত “চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের কাছে ইজারা প্রক্রিয়া, আমাদের উদ্বেগ ও প্রস্তাবনা” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ দেশের জন্য মারাত্মক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত “চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের কাছে ইজারা প্রক্রিয়া, আমাদের উদ্বেগ ও প্রস্তাবনা” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন রাহাত ও দপ্তর সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মুহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, অতীতে বিভিন্ন সময় দেশি-বিদেশি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় ‘ইজারা বা কনসেশন চুক্তি’ এবং ‘অপারেটর নিয়োগ’ এক বিষয় নয়। কনসেশন চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ বাড়ে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতি, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে সিঙ্গাপুরের মতো একটি আঞ্চলিক হাবে রূপান্তর করা সম্ভব। তবে বিদেশি অপারেটরদের হাতে নিয়ন্ত্রণ গেলে এই লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে বাংলাদেশের বন্দরকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে যেতে দিতে চায় না বলেও দাবি করেন তিনি।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিতে বন্দর বিদেশিদের হাতে না দিয়ে সরকারকে দ্রুত পাঁচটি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান জিয়াউল হক। দাবিগুলো হলো- বন্দর বিকেন্দ্রীকরণ, নিজস্ব শিপিং লাইন চালু, রেমিট্যান্স বাড়াতে আরবি ভাষার অর্থনৈতিক ব্যবহার, নদী-খাল খনন এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় এলাকায় হিমাগার নির্মাণ।
মন্তব্য করুন