
নওগাঁর মহাদেবপুরে ব্যবসার জন্য দাবি করা ৩ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে রেহানা (২০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত রেহানা নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর এলাকার সোহেল রানার মেয়ে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের এপ্রিলে মহাদেবপুর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার রতনের সাথে রেহানার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে কনের দরিদ্র বাবা সাধ্যমতো নগদ ১ লাখ টাকা এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র উপহার হিসেবে দেন। তাদের সংসারে বর্তমানে ৩ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বেকার স্বামী রতন ব্যবসার অজুহাতে রেহানার পরিবারের কাছে আরও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে শুরু করে। কিন্তু রেহানার বাবার পক্ষে এই মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া অসম্ভব হওয়ায় রতন ও তার পরিবারের সদস্যরা রেহানার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। এই যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকতো।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুকের টাকার জন্য রেহানার ওপর আবারো চড়াও হয় স্বামী রতন। এ সময় রতনের মা জহুরা বেগমও তার সাথে যোগ দিয়ে রেহানার ওপর নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে শক্ত বাঁশ দিয়ে রেহানার মাথায় সজোরে আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরও তার ওপর বেপরোয়া নির্যাতন চালানো হলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রেহানা।
ঘটনার পর অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত স্বামী রতনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে নেমেছে।
মন্তব্য করুন