
নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক আলোচনা সভা।
সকাল ১০:৪৫ থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই সভায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নারীর ভোটার উপস্থিতি, প্রার্থীরূপে নারীর অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় নারীর অবদান। সভায় অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর সম্ভাব্য বাধা ও চ্যালেঞ্জ এবং আগামী নির্বাচনে নারীর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
উল্লেখযোগ্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন:
সুস্মিতা রায়, সমন্বয়ক, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম
রিতু সাত্তার, সংগঠক, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম
সাদাফ সাজ, সংগঠক, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম
মাহরুর মহিউদ্দিন, সংগঠক, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম
তাসনিম জারা, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাবেক এমপি পদপ্রার্থী
সুস্মিতা রায় সভায় বলেন, “নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব শুধু সংখ্যাতত্ত্বের বিষয় নয়; এটি প্রতিটি স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়। আমাদের লক্ষ্য হলো নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমতা নিশ্চিত করা।”
রিতু সাত্তার ও সাদাফ সাজ নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম ও নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোকপাত করেন। মাহরুর মহিউদ্দিন বলেন, “নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন মানেই দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি বৃদ্ধি, তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
সভায় তাসনিম জারা তার নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “নারীর অংশগ্রহণ শুধু ভোটার বা প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করি, তবে তা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশকেও সমৃদ্ধ করবে।”
আলোচনা সভার সমাপনীতে ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভবিষ্যতে নারীর রাজনৈতিক অধিকার এবং অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য আরও সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীর রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।
এই আলোচনা সভা মূলত নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্বকে সামনে তুলে ধরে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেয় এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য প্রাসঙ্গিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
মন্তব্য করুন