
কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর ও দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতু বর্তমানে চরম জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কাঠামোগত মেয়াদ বহু আগেই শেষ হলেও ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচল করছে শত শত ভারী যানবাহন ও হাজারো মানুষ। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির বিভিন্ন জয়েন্ট ও সংযোগস্থল খুলে গিয়ে বড় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। লোহার পাত, প্লেট ও নাট-বল্টু স্থানচ্যুত হয়ে পড়ায় সেতুটি দিয়ে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইকের চাকা জয়েন্টের ফাঁকে আটকে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। পথচারীরাও উঁচিয়ে থাকা লোহার পাতের সঙ্গে হোঁচট খেয়ে আহত হচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
ভারী যানবাহনে বাড়ছে ঝুঁকি
সোনাহাট স্থলবন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলোর একটি। প্রতিদিন ভারত থেকে আমদানি করা পাথর ও কয়লাবাহী শত শত ট্রাক এই সেতু দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। পাশাপাশি দুধকুমার নদ থেকে উত্তোলিত বালুবাহী ভারী ওভারলোড ডাম্প ট্রাকও নিয়মিত চলাচল করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহন সেতুর ওপর উঠলে পুরো কাঠামো কেঁপে ওঠে এবং বিকট শব্দ হয়। অনেক সময় ভারী গাড়ির চাকা সেতুর জয়েন্টে আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে সেতুটি অচল হয়ে গেলে সোনাহাট স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ
স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জরাজীর্ণ সেতুটির স্থলে নতুন ও আধুনিক সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
প্রযুক্তিগত জটিলতা, সমীক্ষা ও বাজেটসহ নানা কারণ দেখিয়ে নতুন সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাঝে মধ্যে পুরোনো সেতুতে সাময়িক সংস্কার বা জোড়াতালি দিয়ে যান চলাচল সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, চালক ও ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—বড় কোনো দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির পরই কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা জানান, সোনাহাট সেতু এখন তাদের কাছে যোগাযোগের মাধ্যমের চেয়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোনাহাট স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং হাজারো মানুষের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত নতুন একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন