
বাংলাদেশের যুবসমাজের জন্য পতিত সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ রেখে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, বিগত সরকার জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে দেশের জনমিতিক লভ্যাংশ ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কর্মক্ষম। ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ। এই বিশাল যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সুফল অর্জনের সুযোগ ছিল।
তিনি বলেন, নীতিগত দুর্বলতা ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে সেই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালের হিসাবে দেশের প্রায় ৪১ শতাংশ তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ নারী।
অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে নতুন করে প্রায় এক কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে খেলাপি ঋণের হার ১১ শতাংশ দেখানো হলেও প্রকৃত হার ছিল ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা ৩২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়নের যে বয়ান উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তবতার সঙ্গে তার যথেষ্ট অসামঞ্জস্য ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র জনগণের দ্বারা পরিচালিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না হলে তার নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতেও পড়ে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ ড. ইদ্রিস আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আতিকুর রহমান।
সেমিনারে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, আনোয়ার গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, গ্রামীণফোন, বিকাশ, বিআরবি কুষ্টিয়া, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ব্র্যাক, নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ম্যাটাডর ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডসহ দেশের প্রায় ২৭টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন