
আশেকে এলাহী শিবলী (ধুনট উপজেলা প্রতিনিধি): বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ছয় মাসেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২০টিরও বেশি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ট্রান্সফরমারের বাজারমূল্য আনুমানিক ১২ লাখ টাকা। অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন হতাশ ও দিশেহারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরঘাট গ্রামের কৃষক ওসমান গণির সেচপাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হয়। থানায় অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি নিজ উদ্যোগে ৮০ হাজার টাকায় নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করেন। কিন্তু ভাগ্য যেন তাঁর সহায় নয়—গত ১০ নভেম্বর রাতে আবারও সেই ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে যায়। এখন তিনি নতুন করে ট্রান্সফরমার কেনার চিন্তায় পড়েছেন।
এদিকে গত ৮ অক্টোবর গভীর রাতে গোপালনগর ইউনিয়নের বানিয়াগাতি গ্রাম থেকে একযোগে ৬টি ট্রান্সফরমার উধাও হয়ে যায়। তারও আগে, ২৪ জুলাই মথুরাপুর ইউনিয়নের খাদুলি গ্রাম থেকে চুরি হয় আরও ৪টি ট্রান্সফরমার—এর মধ্যে একটি সেচপাম্পে, বাকি তিনটি স্থানীয় রাইস মিলে ব্যবহৃত ছিল।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ওসমান গনি বলেন, “একটি ট্রান্সফরমারের ওজন এত বেশি যে সাধারণ মানুষের পক্ষে চুরি করা সম্ভব নয়। আমার ধারণা, অভিজ্ঞ কোনো দল বা পল্লী বিদ্যুতের অসাধু কর্মচারীরাই এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। কারণ, ট্রান্সফরমার খোলার প্রক্রিয়া জানা ছাড়া এটা করা সম্ভব নয়।”
ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম কামাল পাশা জানান, “চলতি বছরে ২৫টিরও বেশি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার অভিযোগ থানায় করা হয়েছে, তবে এখনও কোনো ট্রান্সফরমার উদ্ধার হয়নি এবং কাউকেও গ্রেপ্তার করা যায়নি।”
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, “বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চোরচক্র শনাক্তে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এসব চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় না আনলে কৃষকদের সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং এর প্রভাব পড়বে ফসল উৎপাদনেও।





