আরাফাত হোসাইন, জাবি প্রতিনিধিঃ স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়া বর্তমান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসনের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী সংগঠন স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস। সংগঠনের অভিযোগ—দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই আন্দোলনের কোনো আকাঙ্ক্ষাই পূরণ করতে পারেনি। মৌলিক সংস্কার, শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রম—কোনো ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।

সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে এখনও দুর্নীতিগ্রস্ত ও আগের ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সহযোগীরাই বহাল আছে। একাডেমিক নিপীড়ন, গবেষণা ও ফলাফল জালিয়াতি, যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ মাসের পর মাস বিচারহীনভাবে পড়ে থাকা প্রশাসনের অদক্ষতা ও উদাসীনতার পরিচায়ক। শিক্ষার্থীদের জন্য সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব, সেখানে বিচারহীনতার এই চর্চা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রতি আরেক দফা নিপীড়ন বলে মন্তব্য করেছে তারা।

অভিযোগ দাখিলের পর তদন্ত ও রায় ঘোষণার দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে নিরুৎসাহিত করছে বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার উদাহরণও তুলে ধরে তারা। অথচ গত এক বছরে তদন্ত কমিটির সিটিং এলাউন্স বাবদ প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হলেও শিক্ষক সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগেই চূড়ান্ত রায় হয়নি।

এ অবস্থায় স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস এর তিন দফা দাবি হলো—
১. একাডেমিক নিপীড়নের অভিযোগকে অতি-গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগ দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করতে বিশেষ সেল গঠন এবং ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
২. আগামী সিন্ডিকেট সভায় একাডেমিক নিপীড়ন সংক্রান্ত বিদ্যমান স্ট্রাকচারাল ও প্রাথমিক তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী বিচারকার্য চূড়ান্ত করতে হবে।
৩. শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর লক্ষ্যে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।