
আমাদের জীবনে প্রায়ই একটা বিভ্রান্তি কাজ করে — আমরা ভাবি শক্ত মানুষ মানেই কঠিন, আর কোমল মানুষ মানেই দুর্বল। কিন্তু আসলে জীবনের সফলতা ও মানসিক বিকাশ তখনই আসে, যখন আমরা শক্তি আর কোমলতা — এই দুই দিককে একসাথে ধারণ করতে শিখি।
শক্তি মানে শুধু কঠোরতা নয়। এটা হলো সাহস, নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকা, অন্যায়ের সামনে নত না হওয়া। আবার কোমলতা মানে দুর্বল হওয়া নয়; বরং এটা হলো বোঝার ক্ষমতা, সহানুভূতি আর মানবিকতার প্রকাশ।
যখন একজন মানুষের মধ্যে শুধু শক্তি থাকে কিন্তু কোমলতা থাকে না, তখন সে ধীরে ধীরে কঠোর ও একা হয়ে পড়ে। মানুষ তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। আবার কেউ যদি শুধুই কোমল হয়, সে সহজেই ভয় পায়, সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, নিজের সীমা টেনে দিতে পারে না।
সফল ও পরিণত মানুষরা জানে — কখন শক্ত হতে হয়, আর কখন কোমল থাকতে হয়। তারা প্রয়োজনে দৃঢ়ভাবে “না” বলতে পারে, আবার প্রয়োজনে অন্যের অনুভূতিতে আলতোভাবে ছোঁয়া দেয়। তাদের শক্তি কাউকে ভয় দেখায় না, বরং নিরাপত্তা দেয়। তাদের কোমলতা কাউকে দুর্বল করে না, বরং মানুষকে সাহসী হতে শেখায়।
আমাদের ব্যক্তিগত উন্নতি শুরু হয় এই ভারসাম্য থেকে। শক্তি আমাদের দেয় নিজের ওপর বিশ্বাস, আর কোমলতা শেখায় অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এই দুইয়ের সমন্বয়ই গড়ে তোলে সেই সুন্দর মানুষটিকে — যে একদিকে দৃঢ়, অন্যদিকে হৃদয়বান।
তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন — আপনি কি শুধু শক্ত হতে শিখছেন, না কোমলতাকেও জায়গা দিচ্ছেন? কারণ সত্যিকারের শক্তি তখনই প্রকাশ পায়, যখন সেটা মিশে যায় মমতার কোমলতায়।
—এলিন মাহবুব





