
বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান।
ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগটি নিছক গুজব নয়, বরং এটি একটি স্পর্শকাতর ও আলোচিত বিষয়, বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে এই ধরনের পরিকল্পনার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয়গুলো-
সরকারের নিষেধাজ্ঞা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সরকার অভিযোগ করে যে, দলটি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নতুন করে নাশকতার অভিযোগ আনা হয়।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, যেমন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ২৫শে জুলাই থেকে ৮ই আগস্টের মধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমন্বিত অনলাইন ও অফলাইন প্রচারণার মাধ্যমে নাশকতার চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে।
অক্টোবর ২০২৫-এ রাজধানী ঢাকা এবং এর আশেপাশে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে।
৭ই নভেম্বর ২০২৫-এ সাভার ও ধামরাই এলাকা থেকে ৮ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তারা ১৩ই নভেম্বরের কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির আগে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন।
পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক: আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা অভিযোগ করে যে, তাদের ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে অভিযোগ করেছিলেন যে, তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন তথ্য উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের এক লাখ সদস্য ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখান থেকে ষড়যন্ত্র করছেন। এ ধরনের অভিযোগ ভারত সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে।
আওয়ামী লীগের নাশকতা পরিকল্পনার বিষয়টি বাস্তবতা নাকি নিছক গুজব, তা নিয়ে বিতর্ক চলমান। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে।





