কায়সার উদ্দিনের পাঠানো রিপোর্ট।

আন্তর্জাতিক ডেক্স: আফ্রিকার দেশ সুদান বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে আছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) ও সরকারি সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, ১ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ৪৫ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। বহু শহরে রাস্তায় পড়ে আছে শত শত লাশ, যাদের দাফনের কোনো ব্যবস্থা নেই; গণকবরও অনুপস্থিত। মাত্র গত তিনদিনে প্রায় ১,৫০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

অবশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই ভয়াবহ গণহত্যার খবর তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। বাংলাদেশের জাতীয় মিডিয়াও এই সংকটকে তুলনামূলকভাবে উপেক্ষা করছে। জাতিসংঘের বিবৃতিও এসেছে দায়সারা ভঙ্গিতে।

রাস্তার পাশে পড়ে আছে লাশের স্তুপ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মানবতার এই নীরবতা প্রমাণ করে, আমাদের সমাজে ‘মানবতা’ প্রায়শই নির্বাচিত বা পক্ষপাতমূলক। যখন কোনো ভিন্ন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষ মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালায়, তখন প্রতিবাদ তীব্র হয়—বিক্ষোভ হয়, মিছিল হয়, বিবৃতি আসে। কিন্তু যদি হত্যাকারী এবং শিকার দু’জনই মুসলিম হন, তখন মানবতার কণ্ঠ ম্লান হয়ে যায়। সুদানের এই সংঘাত সেই দৃষ্টান্ত।

সুদানের যুদ্ধ মূলত দুই মুসলিম জেনারেলের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই। কোনো ইহুদি, খ্রিষ্টান বা হিন্দুর ভূমিকা নেই। তাই বায়তুল মোকাররমের সামনে কোনো বিক্ষোভ নেই; রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলগুলোও নীরব।

মৃত মানুষের মাংশ ভক্ষণ করছে শকুনে।

বিশ্লেষকরা বলেন, সত্যিকার মানবতার দাবি অবশ্যই নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন হতে হবে। আফ্রিকানদের লাশও মানুষের লাশ। সুদানের রাস্তায় পড়ে থাকা লাশ শুধু আফ্রিকার নয়—এটি আমাদের বিবেকেরও লাশ। যদি আমরা অন্যের মৃত্যুকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ভাবি, একদিন আমাদের নিজের মৃত্যুও তুচ্ছ হয়ে যাবে।

সুদানের এই ভয়াবহ বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—মানবতা কখনো নির্বাচিত বা পক্ষপাতমূলক হতে পারে না। যদি তা হয়, তাহলে মানুষ একদিন একে অপরকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করবে, সঙ্গে এই প্রিয় পৃথিবীটাকেও।