যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ওপর ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামের একটি বিল যুক্তরাষ্ট্রের হাউস বাজেট কমিটিতে অনুমোদিত হয়েছে এবং তা ১৭–১৬ ভোটে হাউস অব রেপ্রেজেন্টেটিভে পাস হয়েছে। পরবর্তী ধাপে এটি সিনেটে উত্থাপন করা হবে। বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিক ব্যতীত সব অভিবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্সে কর আরোপ করা হবে।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডধারী, এইচ-১বি ভিসাধারীসহ সকল অভিবাসী এ করের আওতায় পড়বেন। এমনকি রেমিট্যান্সের পরিমাণ যতই হোক, ন্যূনতম সীমা নির্ধারিত না থাকায় ছোট অঙ্কের অর্থ পাঠালেও কর প্রযোজ্য হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, এসব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রবাসীদের পাঠানো আয়, যা দায়বিহীনভাবে আসে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসেছে প্রায় ৪২৭ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা টাকায় প্রায় ৫২ হাজার ২৬ কোটি টাকা (১ ডলার = ১২২ টাকা)। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ কর কার্যকর হলে বাংলাদেশিদের এই আয়ের ওপর কর হিসেবে দিতে হবে প্রায় ২১ দশমিক ৮৫ কোটি ডলার বা ২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।

উল্লেখযোগ্য যে, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি অন্যতম প্রধান উৎস, যার বিপরীতে কোনো দায় থাকে না। এর বিপরীতে রপ্তানি আয় বা বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা খরচের দায় থাকে, যেমন কাঁচামাল আমদানি বা ঋণ পরিশোধ। তাই রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমে গেলে ডলারের সরবরাহ হ্রাস পেতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভেও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ পাঠানোর দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা মানি লন্ডারিং ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ২৬.৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা বৈশ্বিকভাবে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এসেছে প্রায় ১৮ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের করনীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই বিলের বিষয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অভিবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর উৎসাহ কমে না যায়।