
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের (ঠেলে পাঠানোর) চেষ্টা করে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত পিছু হটে বিএসএফ।
ঘটনাটি ঘটে রাত ১২টার দিকে উপজেলার নলঘরিয়া ও নোয়াবাদী সীমান্ত এলাকায়। বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহাম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জনসচেতনতা ও প্রতিরোধে স্থানীয়দের তৎপরতা
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি আগেই সতর্ক অবস্থান নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে সাধারণ মানুষকে সীমান্তে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ফলে সিঙ্গারবিল, বিষ্ণুপুর, মেরাসানী ও নোয়াবাদীসহ আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ রাতের মধ্যেই সীমান্তে জড়ো হন।
সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে বিজিবি থেকে খবর পেয়ে এলাকাবাসীকে ডেকে সীমান্তে পাঠাই। লোকজন জড়ো হলে বিএসএফের সদস্যরা পিছু হটে।’
আরেক ইউপি সদস্য মামুন চৌধুরী জানান, ‘বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তে লোক জড়ো করে পুশইনের চেষ্টা করলে আমরা এলাকাবাসীর সঙ্গে মাইকিং করে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। পরে তারা সরে যায়।’ তবে কতজনকে ঠেলে পাঠানো হচ্ছিল তা নির্দিষ্টভাবে বলা না গেলেও সংখ্যাটি কয়েক শতাধিক হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিজিবির অবস্থান
বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়নের আওতায় থাকা ৩১ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, ‘আমরা পূর্বেই জানতে পারি যে সীমান্ত দিয়ে কিছু পুশইনের চেষ্টা হতে পারে। রাত থেকে সীমান্তে বিজিবির তৎপরতা বাড়ানো হয় এবং জনসাধারণের সহায়তায় পুশইন প্রতিহত করা সম্ভব হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু গণমাধ্যমে গোলাগুলির কথা বলা হলেও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।’
জাতীয় প্রেক্ষাপটে পুশইনের প্রবণতা
৪ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের পাঁচ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মোট ৩১৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে মেহেরপুর, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা, মৌলভীবাজার ও সিলেট সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
প্রশাসনের অবস্থান
বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা বলেন, ‘সীমান্তের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আমরা এখনো সতর্ক রয়েছি।’ তিনি জানান, স্থানীয় জনগণ ও বিজিবির সমন্বয়ে বিএসএফের এ ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করা হয়েছে।
সীমান্তে এই ধরনের পরিস্থিতি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও স্থানীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





