রাজধানীর রমনা বটমূলে ২০০১ সালের পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সাজা কমিয়েছে হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় দেন।

আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, নিয়মিত আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করে। গত ৮ মে রায়ের আংশিক ঘোষণা করা হলেও আজ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো।

সাজা কমেছে সাতজনের

বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মো. তাজউদ্দিনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মামলার আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি আব্দুল হান্নানের ফাঁসি ইতোমধ্যে সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় কার্যকর হওয়ায় তাঁর আপিল পরিসমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বাকি ছয়জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা কমিয়ে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির মধ্যে শাহাদাতউল্লাহ জুয়েলের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। অপর তিনজনের সাজা কমিয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। দুই আসামি মারা যাওয়ায় তাঁদের আপিল পরিসমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

মামলার পটভূমি

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে, রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় মোট ১০ জন নিহত হন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। এ ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও শোকের ছায়া ফেলে।

এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি ‘রমনা বোমা হামলা মামলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৪ সালে বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে রায়

মামলার শুনানি কার্যক্রম ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত মামলাটি সিএভি (রায় অপেক্ষমাণ) ঘোষণা করে। এরপর ৩০ এপ্রিল বিষয়টি রায় ঘোষণার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয় এবং ৮ মে আংশিক রায় ঘোষণা করা হয়। আজ ১৩ মে রায় ঘোষণা সম্পূর্ণ হলো।