
তিস্তা নদী পুনরুদ্ধার ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’ সংগঠনের উদ্যোগে আগামীকাল রোববার গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।
শনিবার (৪ মে) দুপুরে রংপুর শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি জানান, রোববার বেলা ৩টায় রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর থেকে গণপদযাত্রা শুরু হয়ে শেষ হবে জিলা স্কুল চত্বরে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
আসাদুল হাবিব দুলু অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ায় নদীভাঙন, জমি হারানো, ও চরম দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী মানুষ। অথচ বিগত ১৫ বছরে সরকার তিস্তা নিয়ে কোনো বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছেও আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের চীন সফর ও বৈঠক হলেও, তিস্তা নিয়ে কোনো অগ্রগতি কিংবা জনগণকে তথ্য জানানো হয়নি। পরিকল্পনার বিরোধিতায় পরিবেশবাদী কিছু এনজিও’র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি, যা তার মতে “দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ”।
দুলু বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলন ও লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান, ও কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা।
এর আগে গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তিস্তার পানি অধিকার আদায়ে রংপুরের পাঁচ জেলায় বিএনপি ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার কর্মসূচি পালন করে। সেই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
প্রসঙ্গত, প্রায় ২৪০ বছরের পুরনো তিস্তা নদী ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে আজ শুষ্ক মৌসুমে প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন সরাসরি নদীভাঙন ও পানিশূন্যতার ক্ষতির শিকার।





