
ইসলামি বর্ষপঞ্জি হিসেবে পরিচিত হিজরি ক্যালেন্ডার মুসলিম জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হলেও বর্তমান সময়ে এটি অনেকের কাছে কেবলই একটি সাংস্কৃতিক নিদর্শন হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। রমজান, আশুরা বা ঈদের মতো কিছু নির্দিষ্ট দিনের বাইরে হিজরি মাস ও তারিখ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমরা বলছেন, এই ক্যালেন্ডারকে আবারও জীবন্ত করে তোলাই হতে পারে ইমানের পুনর্জাগরণের একটি কার্যকর পথ।
হিজরি ক্যালেন্ডার শুধুই সময় পরিমাপের উপকরণ নয়, বরং এটি ইসলামী জীবনে ইবাদতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তিনিই সূর্যকে উজ্জ্বল ও চাঁদকে আলোকিত করেছেন এবং এর জন্য নির্দিষ্ট পর্যায় নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের সংখ্যা ও সময়ের হিসাব জানতে পারো।” (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫)। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরকারগণ বলেন, হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা আল্লাহর বিধান পালনের একটি মাধ্যম।
ইসলামি স্কলারগণ বলছেন, নবীজি মুহাম্মদ (সা.) প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার যে সুন্নাহ শিক্ষা দিয়েছেন, তা অনুসরণ সম্ভব হয় তখনই, যখন আমরা হিজরি ক্যালেন্ডার জানি ও তা পালন করি। নতুন চাঁদ দেখা, বিশেষ মাসে ইবাদতের বাড়তি গুরুত্ব—এসবই হিজরি বর্ষপঞ্জির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
বিশিষ্ট ইসলামি আলোচকগণ মনে করেন, হিজরি ক্যালেন্ডারকে ঘরের দেয়ালে টাঙানো, স্মার্টফোনে হিজরি তারিখ চালু করা কিংবা প্রতি মাসে নতুন চাঁদ দেখার প্রচলন ফেরানো আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে আল্লাহর সময়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অনুশীলন তৈরি করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.)-এর একটি হাদিসও স্মরণীয়: “যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করে, যা আমার পরে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, সে তাদের সমান পুরস্কার পাবে, যারা তা পালন করবে, তাদের পুরস্কার কমানো ছাড়াই।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৭)।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হিজরি ক্যালেন্ডারের ব্যবহার পুনরুজ্জীবিত করা মানে কেবল পুরনো কোনো ঐতিহ্য রক্ষা নয়, বরং এটি সুন্নাহকে জীবন্ত রাখা এবং ইসলামী সময়বোধ ফিরিয়ে আনার একটি জরুরি পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে মুসলিমরা নিজেদের ইমানকে আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন।





