
মোহাম্মদ ইদরীস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে নবাগত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেছেন, এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবেনা। আমরা কখনো চাইনা আইনশৃঙ্খলা খারাপ অবস্থায় যাক। সামনে নির্বাচন। আমি রাজনীতিবিদের সাথে কথা বলেছি। বলেছি আপনারাও চাচ্ছেন সুন্দর একটা নির্বাচন হোক। তাহলে দলের লোকজনকে হানাহানি, কাটাকাটি থেকে নির্বৃত্ত রাখার ব্যবস্থা করেন। পুলিশ সুপার নতুন এসেছেন। তার সঙ্গে কথা বলবো। সবার সাথে কথা বলে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে হবে। এব্যাপারে কোন ছাড় দেবনা।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি জেলার আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে একথা বলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মোহাম্মদ ইশতিয়াক ভূইয়া। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তাহমিনা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এহসান মুরাদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা।অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সাংবাদিক মোঃ আরজু, খ.আ.ম রশিদুল ইসলাম, মনজুরুল আলম, পীযুষ কান্তি আচার্য, মোঃ ইব্রাহিম খান সাদাত, দীপক চৌধুরী বাপ্পী, নিয়াজ মোহাম্মদ খান বিটু, আল-আমীন শাহীন, সৈয়দ মোঃ আকরাম, মজিবুর রহমান খান, শিহাব উদ্দিন বিপু, মোঃ শাহজাদা, উজ্জল চক্রবর্তী, সেলিম পারভেজ, বিশ্বজিৎ পাল বাবু, মোঃ শাহাদৎ হোসেন, শফিকুল ইসলাম, ফজলে রাব্বী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগদানের পর নজরে এসেছে ময়লা-আবর্জনা, ধুলাবালি, রাস্তাঘাট ভালো না। এনিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলেছি, রাস্তাঘাটের এই বেহাল অবস্থা কিসের জন্য তা জানতে চাই। আসলে এখানে ডেভলপমেন্ট ওয়ার্ক বেশী পরিমানে চলমান। যতদ্রুত সম্ভব কাজগুলো করা যায় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সামনে নির্বাচন। সেটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব রয়েছে।
গত ১৬/১৭ বছর মানুষ ঠিকমতো ভোট দিতে পারেনি। মানুষের মনে এনিয়ে কষ্ট আছে। নির্বাচনটা এখন আমাদের বড় ধরনের অঙ্গীকার। এর ফাঁকে আমাদের আরো অনেক কাজ করা উচিত। আমরা অনেক পৌরসভা করেছি। কিন্তু আধুনিক ওয়েষ্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কয়টা করেছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে এটা সত্যি। প্রথমত এখানে যে পরিমান ময়লা হয়েছে তা উদ্বেগের কারন। এগুলো দ্রুত অপসারন করতে হবে। যেখানে যেখানে গিয়েছি সেখানে ময়লা আর ময়লা। শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটা করতে হবে। পৌরসভার রাস্তা এবং ড্রেন বড় করতে হবে। নদী থেকে ইজারাদাররা ইজারার শর্ত লঙ্গন করে মাটিবালি কাটায় অলরেডি তার প্রশাসন কয়েকটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বলেও জানান তিনি। মতবিনিময় সভার শুরুতে প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ নতুন জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।





