কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার চৌঁয়ারফাড়ি নামক স্থানে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার শিকার হয়ে জালাল উদ্দীন (৩৬) নামের এক আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত কর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জালাল ডানহাতে গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে চকরিয়া উপজেলার চৌঁয়ারফাড়ি নামক স্টেশনে সন্ত্রাসী হামলার এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ দেখি জালালের উপর কয়েকজন লোক অতর্কিত হামলা করে পালিয়ে যায়। কেন এবং কি কারণে হামলা করা হয়েছে কিচ্ছু জানিনা এখনো।
হামলার শিকার হয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মো: জালাল উদ্দীন (৩৬) জানান, সে চৌঁয়ারফাড়ি স্টেশনের রাত্রিকালীন সিকিউরিটির দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি দোকান সমিতির দৈনিক টাকা তোলার কাজ করেন।
সে প্রতিদিনের মত সোমবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধার দিকে দোকান সমিতির টাকা তোলার সময় হঠাৎ করে তার পিছনে তিন থেকে চার জন লোক এসে লোহার রড ও কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি মার দিতে শুরু করে। ভূক্তভোগী জালালের আর্তনাদে স্থানীয় জনতার উপস্থিতি বেড়ে গেলে ঘাতকরা এলোপাতাড়ি কয়েকটা মার দিয়ে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়।
জালাল জানায়, রিয়াজ (২৫) ও তার ভাই কায়েস (১৯) দূর সম্পর্কে আমার ভাগিনা হয়। আমি সন্ধায় দোকান সমিতির টাকা তোলার সময় পিছন থেকে রিয়াজ ও তার ভাই কায়েস এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ (২৪) অতর্কিতভাবে আমার উপর সন্ত্রাসী হামলাটি চালায়। কি কারণে আমার উপর হামলা চালানো হল তা আমি নিজেও জানিনা এখনো।
[caption id="attachment_2739" align="alignnone" width="300"]
ডান থেকে; ঘাতক রিয়াজ, তার ভাই কায়েস ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ।[/caption]
জালাল উদ্দিন আরও বলেন, আমি আমার জীবন নিয়ে খুব আতঙ্কিত। আমার উপর যেইভাবে হামলা করা হয়েছে পরবর্তীতে হইতো আমার উপর আরও বড় হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমি আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।
ভূক্তভোগীর স্ত্রী জানায়, আমরা পরিবার নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি। আমরা চৌঁয়ারফাড়ি স্টেশনের পাশে ছোট একটা ঘর তৈরি করে কোনরকমে থাকি। আমার মেয়ে বড় হয়েছে এবং সে দূরের স্কুলে নিয়মিত যাতায়াত করে। সন্ত্রাসীরা আমার মেয়ের যাত্রাপথে তার ক্ষতি করতে পারে এবং রাত্রিবেলা আমাদের ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করতে পারে বলে আশংকা করছি। আমরা খুব ভয়ের মধ্যে আছি। আমার স্বামী যাতে আইনি কোন পদক্ষেপ না নেয় সেইজন্য আমাদেরকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। মামলা করলে আমাদের উপর কিয়ামত নেমে আসবে বলে হুঁমকি দিয়েছে সন্ত্রাসী রিয়াজ ও তার দলের লোকেরা।
ঘাতক রিয়াজ ও কায়েস চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ঈদমণি কদ্দাচড়ার শামসুল আলমের ছেলে এবং সাজ্জাদ একই এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার বিষয়ে চৌঁয়ারফাড়ি দোকান সমিতির সভাপতি মো: আজম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি (আজম) বর্তমানে এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন রয়েছি। এই ধরনের ঘটনার খবর আমি এখনো শুনিনি এবং কেউ এখনো তাকে জানায়নি বলে জানান আজম উদ্দিন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘাতকের বোনের টিকটক ব্যাবহারকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী জালালের উপর হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। তিনি জানান, আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিব।