
মোহাম্মদ ইদরীস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল আর আশুগঞ্জের হাওর-বাতাসে এখন বইছে নির্বাচনী উত্তাপ, তবে সেই উত্তাপের চেয়েও বেশি ছড়িয়ে পড়েছে এক তীক্ষ্ণ শ্লেষের রেশ। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার কণ্ঠ থেকে ঝরা সেই একটি শব্দ-রোহিঙ্গা’এখন সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষের মুখে মুখে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শাহবাজপুরের সেই মতবিনিময় সভায় রুমিন যখন কথাগুলো বলছিলেন, তার কণ্ঠে মিশে ছিল একরাশ অভিমান আর রাজনৈতিক অধিকারবোধের তীব্র লড়াই। নিজের দলেরই সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত এই নারী যখন দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তখনই বোঝা গিয়েছিল এবারের লড়াইটা কেবল ভোটের নয়, অস্তিত্বেরও।
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে যেন স্থানীয় আবেগকে উসকে দিতে চাইলেন। তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে বিঁধলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবকে। জুনায়েদ আল হাবিবের স্থায়ী ঠিকানা সদর উপজেলার অষ্টগ্রামে হলেও তিনি লড়ছেন সরাইল-আশুগঞ্জ আসন থেকে। এই ‘বহিরাগত’ তকমাটিকেই রুমিন চরম অবজ্ঞাভরে ‘রোহিঙ্গা’ বিশেষণে রূপ দিলেন। রুমিনের এই ইঙ্গিতের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর রাজনৈতিক ক্ষোভ। তিনি মনে করিয়ে দিতে চাইলেন যে, সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষ কি এতটাই অভিভাবকহীন যে অন্য এলাকার কাউকে এসে এখানে ‘মাতাব্বরি’ করতে হবে? সদর আসনের নেতার কাছে জুনায়েদ আল হাবিবের ধর্না দেওয়াকে তিনি দেখছেন স্থানীয় নেতৃত্বের অবমাননা হিসেবে।
এক সময়ের সহকর্মী যখন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে সামনে দাঁড়ান, আর সেই প্রতিদ্বন্দ্বী যখন নিজের মাটির মানুষ হন না, তখন রাজনীতির আঙিনায় এমন শ্লেষাত্মক শব্দগুলো তীরের মতো বিঁধতে থাকে। রুমিন ফারহানার এই একটি শব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তা কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়; বরং এটি সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষের আঞ্চলিক আত্মমর্যাদাকে স্পর্শ করার এক আবেগী প্রচেষ্টা। একজন ‘বহিরাগত’ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের মনে শেকড়ের টান জাগিয়ে তোলার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কতটুকু প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।





