
ভারত-পাকিস্তান চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে রাফালসহ পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না এলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, উপযুক্ত সময়ে সরকারিভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়ে বলেন, “যখন সময় হবে, তখন সরকারিভাবে এ বিষয়ে তথ্য জানানো হবে।” তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পাকিস্তানের হামলার পাল্টা জবাবে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় লাহোরের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কর্নেল কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা বলেন, পাকিস্তান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে অবন্তীপুরা, শ্রীনগর, জম্মু, পাঠানকোট, চণ্ডীগড়সহ ভারতের ১৫টির বেশি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা করে, তবে ভারত তা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
ভারতের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘাতে প্রথম উত্তেজনা ছড়িয়েছে পাকিস্তান। পররাষ্ট্রসচিব মিশ্রি বলেন, “২২ এপ্রিল পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, যেখানে ২৬ জন পর্যটক প্রাণ হারান। ভারত তার জবাবে যা করেছে, তা এক ধরনের প্রত্যাঘাত—এটি আমাদের অধিকার।”
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিক্রম মিশ্রি বলেন, “এই মুহূর্তে হতাহতদের নির্দিষ্ট সংখ্যা বা পরিচয় জানানো সম্ভব নয়। মাত্র ৩৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে, পূর্ণ তথ্য জানতে কিছুটা সময় লাগবে।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পাকিস্তান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে কি না, তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সতর্ক অবস্থানকে বিশেষজ্ঞরা কৌশলগত ‘স্ট্র্যাটেজিক সাইলেন্স’ হিসেবে দেখছেন। তবে বিক্রম মিশ্রি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম থেকেই তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এসেছে। ১৯৪৭ সালের কাশ্মীর আগ্রাসন তারা অস্বীকার করেছিল। জাতিসংঘেও তারা সে সময় মিথ্যা বলেছিল, এবং সেটি ধরা পড়েছিল।”
এর আগে সকালে সর্বদলীয় এক বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি করেন, ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে শতাধিক সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় বা কুখ্যাতদের অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অবস্থাদৃষ্টে বোঝা যাচ্ছে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উত্তপ্ত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তি ও সংযমের আহ্বান জানালেও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।





