রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে জনসম্মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তিন ব্যক্তি মিলে এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছেন। ঘটনার পর এক হামলাকারী মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার (১৮ মে) রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডের ভূতের গলির প্রবেশমুখে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম সাইফ হোসেন মুন্না (৩৫)। তিনি কলাবাগান থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন আছেন।

নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক জানান, ঘটনার সময় সাইফ হোসেন মুন্না কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। পথে তাঁর গতিরোধ করেন মামুন নামে একজন ব্যক্তি। এরপর মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন এম সি শুভ, রানা এবং মোবারক নামের আরও তিনজন। মামুন প্রথমে সাইফকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন, এরপর শুভ ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। পরে তাঁর সঙ্গে আরও দুজন হামলায় অংশ নেন।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে, সেই সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি মাহফুজুল হক বলেন, “ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এটি পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”

এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন করতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

সাইফ হোসেন মুন্নার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং সম্প্রতি স্থানীয় রাজনীতিতে কিছু বিষয়ে প্রতিবাদ করায় হুমকি পেয়েছিলেন।

এ ঘটনায় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল বলছে, জনসমক্ষে এমন নৃশংস হামলা নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন মহল।