
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড়। স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মী থেকে সাধারণ সমর্থক প্রায় আশি শতাংশ মানুষই এই আসনে শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহিরকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩ নভেম্বর দলের ২৩৭টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। কিন্তু যশোর-১ আসনে কেন্দ্রীয় সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা সংস্কারপন্থি নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তির নাম ঘোষণায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শার্শার নেতাকর্মীরা।
শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রভাষক মামুনুর রশিদ বলেন, আবুল হাসান জহির শুধু একজন নেতা নন, তিনি ত্যাগ ও সততার প্রতীক। দলের কঠিন সময়ে তিনি ৪৬টি মামলার আসামি হয়েও রাজপথ ছাড়েননি, বহুবার জেল খেটেছেন, তবুও সংগঠনের হাল ছাড়েননি। আজ তৃণমূলের প্রত্যেক কর্মী তাঁর পাশে আছে। আমরা বিশ্বাস করি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের এই ভালোবাসা ও বাস্তবতাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জনগণের পছন্দের মানুষকে মনোনয়ন দিন।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিএনপির সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে রাজপথে থেকেছেন আবুল হাসান জহির। মামলা-হামলা, কারাবরণ আর নির্যাতন— সবকিছু উপেক্ষা করেও তিনি কখনো দলত্যাগ করেননি, আপস করেননি। গত ১৭ বছর ধরে তিনি কর্মীদের পাশে থেকে দলের সংগঠন ধরে রেখেছেন। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি শুধু নেতা নন, একজন অভিভাবক; রাজনীতি তার কাছে ব্যবসা নয়, দায়িত্ব ও ত্যাগের নাম।
অন্যদিকে, যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা এবং অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য নন। তৃপ্তির এই মনোনয়ন দলীয় কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্তে শার্শার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিএনপি সমর্থক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওয়ান-ইলেভেনের সময় তৃপ্তি তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার ঘনিষ্ঠ হয়ে সংগঠন ভাঙার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন; পরবর্তীতে সে কারণেই তাকে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় তিনি রাজপথে ছিলেন না, এমনকি বিএনপির কোনো কর্মসূচিতেও অংশ নেননি।
বেনাপোলের প্রবীণ বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, আবুল হাসান জহির ছাড়া শার্শা বিএনপি কল্পনাই করা যায় না। মাঠের এই নেতাকেই জনগণ এমপি হিসেবে দেখতে চায়। বাগআঁচড়া এলাকার কৃষক সাইদুজ্জামান বলেন, জহির ভাইয়ের মতো সৎ ও নির্লোভ নেতা খুব কম আছে। তাকে বাদ দিলে বিএনপির কর্মীদের মনোবল ভেঙে যাবে। গৃহবধূ পারভিন খাতুনের ভাষায়, তিনি সব সময় গরিব-অসহায় মানুষের পাশে থাকেন। তার নাম না থাকায় আমরা সবাই হতাশ।
এদিকে তরুণ ভোটারদেরও একই কথা নাভারণ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাজু ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ রহমান বলেন, ১৭ বসরের ত্যাগী নেতা আবুল হাসান জহিরই আমাদের প্রেরণা। তিনি মাঠের মানুষ, কর্মীদের আপনজন। আমরা বিশ্বাস করি তৃণমূলের এই শক্ত ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে দল তাকে-ই যশোর-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে পুনর্বিবেচনা করবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে জহিরের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা এতটাই গভীর যে, স্থানীয় মানুষ এখন এক কণ্ঠে বলছেন আমরা জহির ভাইকেই চাই, তিনি আমাদের প্রার্থী।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মাজেদ, আব্দুস সাত্তার, আহম্মদ আলী শাহিন, জামাল হোসেন, মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক আলমগীর কবির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রউফ মন্টু, আনোয়ার হোসেন বাবু, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মিকাইল হোসেন মনা, সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জমাত আলী মেম্বার, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হাসান, সহ-মানবধিকার বিষয়ক সম্পাদক নাছির উদ্দীন, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ আতিকুজ্জামান, সহ-মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক সাবদার আলী এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় জানান, শার্শার ৮০ শতাংশ মানুষই ত্যাগী নেতা আবুল হাসান জহিরকে যশোর–১ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। বিএনপির কঠিন সময় থেকে শুরু করে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি মুহূর্তে তিনিই ছিলেন আমাদের একমাত্র ভরসা। মামলা-হামলা, কারাবরণ, নির্যাতন কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। তিনি জনগণের নেতা, কর্মীদের অভিভাবক। তৃণমূল আজ এক কণ্ঠে বলছে আমরা জহির ভাইকেই চাই। দলের উচ্চপর্যায়ে আমরা জোর দাবি জানাই, তৃণমূলের এই শক্ত বাস্তবতা ও জনগণের ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক।
কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব রবিউল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওলিয়ার রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাবু, ডিহি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওলিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সালাহউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল হোসেন, লক্ষণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আহসান হাবীব খোকন, সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হাই, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শুকুর আলী খোকন, বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান খোকন, পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান, সহ-সভাপতি আব্দুল গফ্ফার, সহ-সভাপতি সোলাইমান হোসেন, গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন রুহুল, সাংগঠনিক সম্পাদক কদর আলী মেম্বার, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান, গোলাম মোস্তফা খোকন মেম্বার এক যৌর্থ বিবৃতিতে বলেন দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথের সকল আন্দোলন সংগ্রামে হাসান জহির সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নিয়েছেন, বিপদে আপনে পাশে দাড়িয়েছেন। নেতাকর্মীদের নিজের অর্থে জামিন করিয়েছেন, অসুস্থ নেতাকর্মীদের চিকিংসার খরচ দিয়েছেন। তাই আমরা তৃণমূল হাসান জহির ভাইয়ের বিকল্প ভাবতে পারছিনা। আমরা আশাবাদী জনাব তারেক রহমান তৃণমূলের কথা চিন্তা করে মনোনয়ন পরিবর্তন করে হাসান জহির কে প্রদান করবেন এবং আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে হাসান জহিরকে বিজয়ী করে এই আসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও জনাব তারেক রহমান কে উপহার দেবো ইনশাআল্লাহ।
একই দাবি জানান যশোর জেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা কৃষকদলের সদস্য আলমগীর হোসেন, জেলা তাঁতীদলের সদস্য শফি উদ্দীন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক জসিম উদ্দিন রিদুল, শার্শা উপজেলা মৎস্যজীবীদলের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন, শার্শা উপজেলা ওলামাদলের সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মাদ আলী শাহিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম রোজা, বেনাপোল পৌর যুবদলের সদস্য সচিব রায়হানুজ্জামান দিপু, শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন,যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান জাহিদ, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ, মোজাফফর উদ্দিন, শার্শা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াছি উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান জনি, শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সবুজ হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক রনি ফরহাদ, মহিউদ্দীন নিপু, আহম্মাদ আলী সোহাগ, নাভারণ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাজু, সাধারণ সম্পাদক পারভেজ রহমান, বাগআচড়া ডাঃ আফিল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহিন আক্তার, সরকারী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুল হাসান, বেনাপোল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাকিদুর রহমান আলিফ। তাদের ভাষায়, জহির ভাই ছাড়া শার্শা বিএনপি কল্পনাই করা যায় না। তৃণমূলের রায় স্পষ্ট জনগণের প্রকৃত প্রার্থী আবুল হাসান জহির। দল যদি জনগণের মনোভাবকে মূল্যায়ন করে, তবে এই আসনে তাকেই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে এটাই সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে আবুল হাসান জহির নিজেও ধীরস্থির কণ্ঠে বলেন, আমি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আমি বিশ্বাস করি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের অনুভূতি ও জনগণের ভালোবাসাকে মূল্যায়ন করবেন। বিএনপি কখনো ত্যাগী নেতাদের অবহেলা করে না একদিন অবশ্যই তার মূল্যায়ন হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শার্শায় বিএনপির সংগঠন টিকে আছে মূলত জহিরের নেতৃত্বে। স্থানীয়দের দাবি, যদি তারেক রহমান তৃণমূলের আবেগ ও বাস্তবতাকে বিবেচনা করেন, তবে আবুল হাসান জহিরকেই যশোর-১ আসনের উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে “পুনর্বিবেচনা” করা হবে এটাই সময়ের দাবি।





