
পিরোজপুর প্রতিনিধি: মুহাম্মদ মুনতাসির।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক বছরেরও বেশি সময় আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর লামিয়া আক্তার মুন্নি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের দাবি উঠেছে এলাকাজুড়ে। নিহত মুন্নির পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি—ঘটনার এতদিন পার হলেও মূল আসামিদের এখনো বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।
নিহত লামিয়া আক্তার মুন্নি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ২০ মার্চ ২০২৩ তারিখে মঠবাড়িয়া উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে তার নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। তবে মামলার অগ্রগতি খুব বেশি না হওয়ায় পরিবার এখন গভীর হতাশায় ভুগছে।
নিহতের বাবা মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ে কোনো অপরাধ করেনি। আমার স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে আমার নিষ্পাপ মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এটা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি একটি নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্র। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এলাকাবাসী জানায়, ঘটনাটির পরপরই কিছু সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মামলার তদন্ত ধীরগতিতে চলছে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও আদালতে চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এলাকার সামাজিক সংগঠনগুলোও সম্প্রতি এই হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা বলছে, “একটি কিশোরীর প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
নিহত মুন্নির সহপাঠীরা এখনো সেই দিনের কথা স্মরণ করে ভয়ে কেঁপে ওঠে। তারা বলে, “মুন্নি ছিলো হাসিখুশি ও মেধাবী মেয়ে। এমন পরিণতি তার প্রাপ্য ছিল না।”
এদিকে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি, শিগগিরই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং ভিকটিম পরিবারের প্রতি অন্যায়ের ভার বাড়বে।
তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন—“নিহত লামিয়া আক্তার মুন্নির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”





