বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান।

৩ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক, যদিও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) দাবি, গত বছরের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। তবে সারাদেশে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি ঢাকায়, ফলে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে মৃত্যুহারও তুলনামূলকভাবে বেশি।

রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি:

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর ৬৩% ঘটেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায়।

২ নভেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১,১৬২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৪৩৬ জনই ছিল ঢাকা মহানগরীর।

গতকাল (২ নভেম্বর) ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণের কারণে আক্রান্ত রোগীর অবস্থা জটিল হচ্ছে, যার ফলে দেরিতে হাসপাতালে ভর্তির কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে।

অক্টোবর ও নভেম্বরের প্রথম দিকে বৃষ্টি হওয়ায় এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সুশাসনের ঘাটতি থাকায় এবং কার্যকর কৌশল না থাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমী রোগ নয়, এটি বছরব্যাপী জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে।

প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় হিসেবে-

সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতো সংস্থাগুলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ এবং হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করছে।

ডিএনসিসি এবং ডিএসসিসির পক্ষ থেকে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বাড়ির আশেপাশে, ফুলের টবে বা এসির জমা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

দিনের বেলায় মশার কামড় এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।