বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান।

আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং বেশ কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি ঘটে।

এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পে সারাদেশে অন্তত ৬ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলী এলাকায় একটি ভবনের রেলিং ভেঙে ৩ জন পথচারী নিহত হন। রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এই জেলায় ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

আতঙ্কিত হয়ে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়া এবং হুড়োহুড়ির কারণে অনেকে আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে পঙ্গু হাসপাতালের ১২ তলা নতুন ভবনে ফাটল দেখা যাওয়ায় রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা এই ভূমিকম্পটিকে একটি বড় ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা হিসেবে দেখছেন। ঢাকা ও এর আশপাশে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ে বিরল বলে তারা জানিয়েছেন।

ঢাকা ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এটি ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

বড় ভূমিকম্পের পর সাধারণত পরাঘাত বা ‘আফটারশক’ হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) তাদের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র সক্রিয় করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য প্রথমিক চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দল প্রস্তুত রেখেছে।