
বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ‘২৪-এর পর বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক ও অধিকারভিত্তিক শাসনব্যবস্থা জোরদারের চলমান প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য জআয়ারল্যান্ড পুলিশ সংস্কারে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আয়ারল্যান্ড। তাদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম পুলিশ ন্যায়পাল ব্যারোনেস নুয়ালা ও’লোন এই প্রস্তাব দেন।
মূল প্রস্তাব ও কারণঃ আয়ারল্যান্ড ও বিশেষত উত্তর আয়ারল্যান্ডে সংঘাত-পরবর্তী সময়ে পুলিশের জবাবদিহিতা ও জনগণের আস্থা বাড়ানোর জন্য কার্যকর সংস্কার হয়েছে। ব্যারোনেস ও’লোন এই অভিজ্ঞতাগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আগ্রহ দেখান।
আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায় যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যার জন্য ধৈর্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতির প্রয়োজন।
প্রতিনিধিদল পুলিশ সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছে।
তারা বাংলাদেশের পুলিশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া, পেশাদার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশের গণতন্ত্র, শান্তি ও ন্যায়বিচারের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা উভয় দেশের পারস্পরিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
প্রতিক্রিয়া: বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আয়ারল্যান্ডের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় তাদের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেছেন।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকীকরণ ও জনমুখী সেবার প্রসারে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
এই প্রস্তাবটি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে আরও উন্নত ও জনবান্ধব করতে সহায়ক হতে পারে। আয়ারল্যান্ডের সংঘাত-পরবর্তী সংস্কারের অভিজ্ঞতা বিশেষ করে জবাবদিহিতা ও জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান শিক্ষা হতে পারে।





