পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি: মুহাম্মদ মুনতাসির

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুর জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিশ্ববরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (রহ.)–এর দুই পুত্র আলহাজ্ব মাসুদ সাঈদী ও আলহাজ্ব শামীম সাঈদী।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-জিয়ানগর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলহাজ্ব মাসুদ সাঈদী, এবং পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া–নেছারাবাদ–কাউখালী) আসনে মনোনীত হয়েছেন তার ভাই আলহাজ্ব শামীম সাঈদী।

এছাড়া পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জামায়াতের উপজেলা আমীর অধ্যাপক শরীফ আব্দুল জলিল।

২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেন আলহাজ্ব মাসুদ সাঈদী।

পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-জিয়ানগর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মাসুদ সাঈদী।

উন্নয়ন, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি তাকে এলাকাবাসীর আস্থার প্রতীক করে তুলেছে। নির্বাচনের মাঠে তিনি প্রতিদিনই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমস্যার কথা শুনছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।

তারই বড় ভাই আলহাজ্ব শামীম সাঈদী পিতার প্রতিষ্ঠিত “আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন”–এর চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন (হাব)–এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া–নেছারাবাদ–কাউখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শামীম সাঈদী।

ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয়তা তাকে তরুণ ভোটারদের কাছেও জনপ্রিয় করে তুলেছে। মাঠপর্যায়ের প্রচারে তিনি মানবিক মূল্যবোধ ও সেবামূলক রাজনীতির বার্তা দিচ্ছেন।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে লড়ছেন অধ্যাপক শরীফ আব্দুল জলিল, যিনি এলাকায় শিক্ষানুরাগী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা ও নীরব সাংগঠনিক প্রস্তুতি ভোটের মাঠে নতুন গতি আনছে।

জানা গেছে, এই তিন আসনের কোনোটিতেই বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। এর ফলে অনেক ভোটার অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, আর এই সুযোগেই জামায়াতের তিন প্রার্থীর অবস্থান শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “সাঈদী পরিবারের প্রতি মানুষের আবেগ, শ্রদ্ধা ও আস্থা এখনো গভীর। এই আবেগ যদি ভোটে পরিণত হয়, তবে পিরোজপুরের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।”

জেলাজুড়ে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রে মাসুদ ও শামীম সাঈদী। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারা ভোটারদের সমস্যার কথা শুনছেন এবং বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

স্থানীয়দের ভাষায়—“আমরা আল্লাহভীরু ও সেবাপ্রাণ রাজনীতি চাই। সাঈদী পুত্ররা সেই প্রতীক।”

উল্লেখ্য, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ১৯৯৬ সালে পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ হন।

তাঁর মৃত্যুর পরও জনগণের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আজও অটুট, যা দুই পুত্রের রাজনৈতিক যাত্রায় এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।