মো: সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের পরিচিতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় রাজস্থলী উপজেলা সম-অধিকার আন্দোলনের নবগঠিত কমিটির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল মোতালেব মেম্বার এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মাসুদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম-অধিকার আন্দোলন রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন—
কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও উপদেষ্টা জনাব জাহাঙ্গীর কামাল, জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক সগির আহমদ, জেলা সদস্য সচিব রকিব হোসেন, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নুরুল আবছার, জেলা সদস্য ও রাঙামাটি পৌর সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর বাদশা, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহীন আলম, সমঅধিকার ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক মো. শরীফ এছাড়াও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার সমবণ্টন, শিক্ষা, চাকরি, কর্মসংস্থান ও সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং চালিয়ে যাবে।

বক্তারা ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে একতরফা ও বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বলেন, ওই চুক্তির ফলে পাহাড়ে বৈষম্য, বঞ্চনা ও সামাজিক বিভাজন বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ের একটি শ্রেণি বিভিন্ন সুবিধা, অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাবশালী হয়ে উঠলেও বৃহৎ একটি অংশ আজও নিপীড়িত, অবহেলিত ও মৌলিক অধিকারহীন জীবনযাপন করছে—যার দায় রাষ্ট্রের ভুল নীতির ওপর বর্তায়।

বিশেষ অতিথি অধ্যক্ষ ক্যামং মারমা ভান্তে বলেন, “অসংখ্য সন্ত্রাসী গ্রুপের তৎপরতায় পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে কারা সুবিধা নিচ্ছে—তা রাষ্ট্রের অনুধাবন করা জরুরি। পাহাড়ি-বাঙালির সহাবস্থান নষ্টের পেছনে যে ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা উন্মোচন না করলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

পরিশেষে সভাপতি আবদুল মোতালেব মেম্বার সমাপনী বক্তব্য প্রদান করলে আলোচনা সভার কার্যক্রম শেষ হয়।