
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর অবশেষে উদ্ধার হলো জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল কুষ্টিয়া সদর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবেদুর রহমান আন্নু’র মরদেহ। ফরিদপুরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চল থেকে পূর্ব মজমপুর নিবাসী এই নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং বালুমহালের ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বে’র জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আন্নুকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রোববার (১৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার গোপীনাথপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালুবাহী নৌযান থেকে টাকা তোলার সময় অন্য একটি ট্রলারের ধাক্কায় মোঃ আবেদুর রহমান আন্নু নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর থেকেই আন্নুর পরিবার ও স্থানীয় শ্রমিকদল কর্মীরা উদ্ধার অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি এই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করে আসছিলেন।
মরদেহ উদ্ধার ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া: ফরিদপুরের চর এলাকায় আন্নুর লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কুষ্টিয়ার পূর্ব মজমপুর এলাকাসহ স্থানীয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল কর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আন্নুর পরিবারের সদস্যরা তাদের পূর্বেকার অভিযোগটি আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরেই আন্নুকে ট্রলারের ধাক্কায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত শ্রমিকদল নেতার পরিবার প্রশাসনের প্রতি অনতিবিলম্বে লাশের সুষ্ঠু ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা এ ঘটনার পেছনে যে বা যারা জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা এবং শ্রমিকদল নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা না হয় তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
বর্তমানে আন্নুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।





