রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় রূপায়ন ট্রেড সেন্টারের নিচে দলটির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে ৫জন আহত হয়েছেন বলে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ সময় দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেনও সেখানেই ছিলেন। তবে তিনি নিরাপদ আছেন। এর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলের নেতারা।

এনসিপির ভাষ্যমতে, সোমবার (২৩ জুন) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে এই ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের ১৬ তলায় এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়। এর আগে রোববার রাতেও একই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দীন সিফাত বলেন, ‘এনসিপি অফিস ভবনের সামনে অজ্ঞাতনামা কেউ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অফিসের নিচে তখন সদস্যসচিব আখতার হোসেন দাঁড়িয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই সন্ত্রাসীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে চাওয়া পতিত স্বৈরাচারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও এর সকল সন্ত্রাসী অংশীদারদের নিরস্ত্র করতে ব্যর্থ হলে ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্বে নিয়োজিত সেনা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের এই ব্যর্থতার দায় নিতে হবে।’

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আখতার হোসেন রূপায়ণ টাওয়ারের কার্যালয়ের নিচে নামলে তাঁকে ঘিরে ৫০-৬০ জন লোক ছিলেন। বাংলামোটর মোড়ে সিগন্যাল ছাড়ার পর হঠাৎ সাদা রঙের একটা হাইয়েস গাড়ি থেকে নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে একটি ককটেল ছুড়ে মারা হয়। ককটেল ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি টান দিয়ে চলে যায়।’

ককটেলটি সরাসরি কারও গায়ে না লাগলেও কয়েকজনের শরীরের কাছাকাছি জায়গায় পড়েছে বলে জানান যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির। তিনি বলেন, ‘ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে এনসিপির শ্রমিক উইং কেন্দ্রীয় সংগঠক শফিকুল ইসলাম, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুর রব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হাজারীবাগ থানার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সুমন হোসেন ও এনসিপির ঢাকা মহানগর নেতা আসিফ উদ্দিন সম্রাট আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এনসিপি কার্যালয়ের কর্মচারী মনিরও সামান্য আহত হয়েছেন।’