তানভীর আজাদ, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার আসামি জামিরুল ইসলাম জামু (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের শীতলাইপাড়া গ্রামে স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার জামিরুল ইসলাম জামু শীতলাইপাড়া গ্রামের আবু আফফানের বড় ছেলে। তিনি আপন চাচীকে হত্যার দায়ে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় বিজ্ঞ আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে তারিকুল হোসেন (৩০) কে জামু ও তার ৮-১০ জন সহযোগী রাস্তার পাশ থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় জনগণ ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। তবে জনতার হাতে ধরা পড়েন জামিরুল ইসলাম জামু। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ভুক্তভোগী তারিকুল হোসেন জানান, হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বাঁশঝাড়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি উদ্ধার হন। তিনি অভিযোগ করেন, জামু গ্রুপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার স্বজনদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর পাশাপাশি হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।
এ ঘটনায় দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম পারভেজ রতন বলেন, জামিরুল ইসলাম জামু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। হত্যাকাণ্ড, চুরি ও ডাকাতির মতো ঘটনায় জড়িত থেকে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে সে নিজেকে আড়াল করে রাখত। তার গ্রেপ্তার দৌলতপুরের জন্য স্বস্তির খবর।
স্থানীয় বাসিন্দা আকরামুল হক অভিযোগ করেন, শীতলাইপাড়া গ্রামে একাধিক নারী হত্যার ঘটনায় জামু ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিল। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা নিরীহ মানুষকে মামলায় ফাঁসিয়ে দীর্ঘদিন এলাকাবাসীকে আতঙ্কে রেখেছে।
সাবেক ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন বলেন, “জামু একজন ভয়ংকর অপরাধী। অর্থের বিনিময়ে সে যেকোনো অপরাধ করতে দ্বিধা করত না। একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।”
এদিকে অভিযুক্তদের একজন তুহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামুর সঙ্গে তার বা তার পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এসব ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রশ্নই ওঠে না।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জামু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৌলতপুরকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে।