শার্শা প্রতিনিধি: প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বহালের দাবিতে যশোরের শার্শায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে শার্শা উপজেলা স্টেডিয়াম চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন মফিকুল হাসান তৃপ্তি। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে ফোন করে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দলের মহাসচিব যখন প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন, সেখানে যশোর-১ আসনে আমার নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর আমি উপজেলা ও পৌরসভার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করেছি, দলকে গুছিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, যারা অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তাদের আমি বারবার আলোচনায় ডেকেছি। তারা আসেননি। বরং খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলের নামে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়েছেন। তারপরও আমি তাদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করিনি, আজও করব না।
তৃপ্তি বলেন, আমি আজ এখানে এসেছি জানতে—আমার মনোনয়ন কেন পরিবর্তন করা হলো? দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে আমি অংশ নিয়েছি। শার্শায় দলীয় কর্মসূচিতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতিত হয়েছি। যশোর, খুলনা ও কেন্দ্রীয় সব কর্মসূচিতে লোকজন নিয়ে উপস্থিত থেকেছি, হরতাল পালন করেছি। তাহলে কোন অশুভ শক্তির কারণে আমার মনোনয়ন পরিবর্তন করা হলো?
এ সময় তিনি তার মনোনয়ন বহালের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সমাবেশে জামাল উদ্দীন নামের এক সমর্থক বলেন, শার্শা আসনে দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় চরম অবিচার করা হয়েছে। অপরদিকে মনোনয়নপ্রাপ্ত শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে বিগত বছরগুলোতে শার্শার রাজনীতিতে সক্রিয় নেতা হিসেবে তৃণমূল কখনো দেখেনি বা চিনত না।
বক্তারা বলেন, বিগত বছরগুলোতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জেল খেটেছেন, পরিবার-পরিজন ছেড়ে বাড়ির বাইরে থেকেছেন এবং নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সেই কঠিন সময়ে তাদের একমাত্র ভরসা ও নেতৃত্ব ছিলেন মফিকুল হাসান তৃপ্তি। সেই ত্যাগী নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে হঠাৎ ‘পাখির মতো উড়ে এসে বসা’ কাউকে তারা মেনে নেবেন না।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ত্যাগ, সংগ্রাম ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কহীন কাউকে মনোনয়ন বহাল রাখা হলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তৃপ্তির মতো ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করলেও মফিকুল হাসান তৃপ্তির সাংগঠনিক অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। অবিলম্বে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে যোগ্য ও জনপ্রিয় এই নেতাকে মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রাথমিকভাবে যশোর-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তবে এই আসনে তার বিপরীতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন এবং সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু। তারা শুরু থেকেই তৃপ্তির প্রার্থিতার বিরোধিতা করে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে একাট্টা হন।
তাদের অভিযোগ ছিল, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গত ১৭ বছরে তৃণমূল পর্যায়ের বহু নেতা-কর্মী নির্যাতিত হলেও তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। এছাড়া মফিকুল হাসান তৃপ্তি দলের দুঃসময়ে এলাকায় ছিলেন না এবং নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখেননি—এই অভিযোগ তুলে তারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানান।