
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ডিসি অফিসে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে জেলায় বসবাসরত হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দুইটি সুইপার কলোনীর শতাধিক মানুষ ব্যানার ও ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসে বিক্ষোভ করে। পরে সেখানে ‘বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ ও হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন’ জেলা শাখার ব্যানারে একটি মিছিল মিশন মোড়ে এসে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে।
মানব বন্ধনে হরিজন নেতারা বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সংস্থাপন শাখায় ৭টি পদের অনুকুলে ৩৯জনকে নিয়োগের জন্য গত ১৩ এপ্রিল বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত শুক্রবার নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যার মৌখিক পরীক্ষা রোববার (৭ ডিসেম্বর) রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিজ্ঞাপ্তিতে ৬জন পরিচ্ছন্নকর্মী শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়, কোন স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ড হতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে হরিজন সম্প্রদায়ের ৪৫ জন কর্মী আবেদন করেন। একজন হরিজন প্রার্থী উক্ত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি।
মানববন্ধনে হরিজন সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, লালমনিরহাট ডিসি অফিসে ওই ৬জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগে যে প্রশ্ন করা হয়েছে তা ৮ম শ্রেণি সমমানের হয়ন, হয়েছে বিসিএস এর সমতুল্য। ইচ্ছে করে হরিজন সম্প্রদায়কে বাদ দেবার জন্য।
তারা আরও বলেন আমরা বৈষ্যমের শিকার হচ্ছি, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ গুলো এতদিন হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন করে আসছিল। এ পদে যদি হিন্দু বা মুসলিম বা অন্য সম্প্রদায়ের লোকদের নিয়োগ দেয়া হয় তা হলে তারা তো কর্মহীন হয়ে পড়বে। বর্তমানে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা লেখাপড়া করছে, তাদের সন্তানরা স্কুলের গন্ডি পেড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। তাদের দাবী তাদের সম্প্রদায়ের শিক্ষিত লোকজনদের নেয়া হোক।
তারা আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগে লালমনিরহাট জেলা প্রকাশক এ এচই এম রকিব হায়দার তাদের সঙ্গে বৈষম্য করেছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্নপত্র কঠিন করে কৌশলে তাদের বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা ওই নিয়োগ বাতিলের দাবী জানান। তাদের দাবী মেনে নেওয়া না হলে ডিসি অফিসে মানুষের বিষ্ঠা (পায়খানা) রেখে আন্দোলন করার হুমকি দেন, এমনকি দাবী না মানা হলে জেলার সকল প্রতিষ্ঠান হরিজন সম্প্রদায়ের কর্মচারী কাজ বন্ধ করে দেবেন। এমনকি পার্শ্ববতী জেলার হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন লালমনিরহাটে এসে বৃহত্তর কর্মসূচী দেবেন বলে নেতারা জানান।
লালমনিরহাটের জেলা প্রকাশক এ এচই এম রকিব হায়দার বলেন, প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট কারো জন্য করা হয় না। সকল প্রার্থী বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্র করেছেন। তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে কেউ যদি আন্দোলন করে তাতে কিছু করার নেই।





